Follow us

বাসযোগ্যতায় ঢাকা নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় শহর

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2018-08-14
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকা শহরের একটি ব্যস্ত সড়ক। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
ঢাকা শহরের একটি ব্যস্ত সড়ক। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
বেনারনিউজ

গত দুই দশক ধরে মেয়ররা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে ‘তিলোত্তমা’ নগরী হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) বাসযোগ্য শহরের তালিকায় বিশ্বের ১৪০টি শহরের মধ্যে এবার এ শহরের অবস্থান ১৩৯তম।

মঙ্গলবার ‘গ্লোবাল লিভেবলিটি ইনডেক্স’ প্রকাশ করেছে ইআইই্‌উ। এতে দেখা যায়, বাসযোগ্যতা বিবেচনায় সবচেয়ে ‘বাজে অবস্থা’ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার শহর দামেস্কের। সূচকে ঢাকার পেছনে কেবল এই শহরটিরই অবস্থান।

এই বার্ষিক সমীক্ষায় স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামোসহ ৩০টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি শহরের বাসযোগ্যতা নিরূপণের চেষ্টা করে ইআইইউ।

তবে বাংলাদেশের নগরবিদদের মতে, এই মাপকাঠি গ্রহণযোগ্য নয়, বরং একপেশে। জনসংখ্যার বিবেচনায় ঢাকা যথেষ্ট জনবান্ধব বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বেনারকে বলেন, “ইআইইউয়ের এই জরিপ গ্রহণযোগ্য মাপকাঠি নয়। ওদের যে মাপকাঠি তা মূলত বিনিয়োগ এবং পর্যটন বান্ধবতার নিরীখে। কিন্তু জননীতির সাপেক্ষে যে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের শহর ঢাকা; তাকে শুধুমাত্র এই ধরনের বিবেচনায় বিবেচিত করার চেষ্টা করলে তা একপেশে হবে।”

“সত্যিকার অর্থে প্রতি কিমিতে ৪৫ হাজার মানুষের শহর ঢাকায় যে পরিমাণ ক্রাইম হচ্ছে তা পৃথিবীতে অবিশ্বাস্যভাবে কম। সেইভাবে বিবেচনা করলে দুবছর আগে হলি আর্টিজানের ঘটনা ঘটেছিল, একটি শহরকে আরবান রেজিলেন্স বিবেচনায় বিবেচনা করতে হয়। এই জরিপে সেটি বিষয়টি নেই,” বলেন তিনি।

এই প্রকৌশলীর মতে, “বিরাট জনসংখ্যার এই শহর হলি আর্টিজানের মতো জঙ্গি হামলার পরে কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশের সরকার যেভাবে জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করেছে সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে যদি জরিপ করা হয় তাহলে তা অন্যায় হবে।”

জনঘনত্বের বিবেচনায় ঢাকা অনেক বেশি সাসটেইনেবল এবং জনবান্ধব মনে করেন তিনি।

তবে রাজধানী ঢাকায় যেসকল উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়িত হলে ইআইইউ সূচকের একশ শহরের মধ্যে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সরকারের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ বিলাল বেনারকে বলেন, “প্রায় তিন কোটি মানুষের শহরে সবার সুযোগ-সুবিধা দেওয়াটা সহজ ব্যাপার না। ঢাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার ও ওয়াসার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।”

“তবে ইআইইউ স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর কথা যেটা বলেছে, আমি বলব, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়, এতে বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, যানজট, ভোগান্তি হচ্ছে ঠিক। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। আশা করছি, সে সময় আমরা হয়তো ১০০ শহরের মধ্যে চলে যাব,” বলেন তিনি।

ঢাকার স্কোর ৩৮

ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সূচকে এবার ঢাকার স্কোর এক শর মধ্যে ৩৮। গত বছর ৩৮.৭ স্কোর নিয়ে ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকা ছিল ১৩৭ নম্বর অবস্থান।

ইআইইউ বাসযোগ্যতা নিরূপণে যে মূল পাঁচটি সূচকের বিবেচনা করেছে, তার মধ্যে ঢাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোতে।

এবার স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের স্কোর ২৯.২। এই সূচকে দামেস্কের স্কোরও একই। অথচ অবকাঠামোতে ঢাকা পেয়েছে ২৬.৮। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্কও এই সূচকে ৩২.১ নম্বর পেয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এই জরিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিবিসি বাংলাকে মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, কোন ধরনের, কোন শ্রেণি পেশার নাগরিকদের জন্যে ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য শহর বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেটা তার কাছে স্পষ্ট নয়।

“এটা কি লন্ডন শহরে যারা বসবাস করছেন তাদের জন্যে, নাকি মেলবোর্ন শহরে যারা থাকেন তাদের দৃষ্টিতে অথবা যারা নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন তাদের দৃষ্টিতে নাকি ঢাকা শহরের মানুষের দৃষ্টিতে সেটা আমার জানা নেই,” বলেন সাইদ খোকন।

মেয়র বলেন, পৃথিবীর অনেক শহরের তুলনায় ঢাকায় অপরাধের ঘটনাও খুব কম। কোনক্রমেই ঢাকার অবস্থান এতো নিচে আসতে পারে না।

মেলবোর্নকে সরিয়ে অস্ট্রিয়া শীর্ষে

এদিকে বাসযোগ্যতার বিবেচনায় গত সাত বছর ইআইইউয়ের গ্লোবাল লিভেবলিটি ইনডেক্সের শীর্ষ স্থানটি দখল করে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। তবে এবার মেলবোর্নকে সরিয়ে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে।

মেলবোর্নের স্কোর গত বছর ছিল ৯৭.৫। এ বছর তা বেড়ে এবার ৯৮.৪ হলেও তার চেয়েও বেশি উন্নতি করেছে ভিয়েনা। এ শহরের স্কোর গতবারের ৯৭.৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৯.১।

পশ্চিম ইউরোপের এই শহর সংস্কৃতি ও পরিবেশ সূচকে পেয়েছে ৯৬.৩ নম্বর। বাকি সবগুলোকে ১০০ তে ১০০।

গ্লোবাল লিভেবলিটি ইনডেক্সের শীর্ষ দশে নাম নেই নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, বার্লিন বা সাংহাইয়ের মতো শহরের। তবে কানাডার তিন শহর ক্যালগেরি, ভ্যাঙ্কুভার ও টরন্টো রয়েছে তালিকার ৪, ৬ ও ৭ নম্বরে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন