Follow us

উত্তরাঞ্চলের পর এখন মধ্যাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে

পুলক ঘটক
ঢাকা
2020-07-02
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি বন্যা আক্রান্ত এলাকায় খেয়া নৌকায় যাত্রীরা পার হচ্ছেন। ২৬ জুন ২০২০।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি বন্যা আক্রান্ত এলাকায় খেয়া নৌকায় যাত্রীরা পার হচ্ছেন। ২৬ জুন ২০২০।
[বেনারনিউজ]

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে, দেশব্যাপী এই মহামারির সাথে এসে যুক্ত হয়েছে নতুন দুর্যোগ, বন্যা।

গত এক সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর এবার মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, জামালপুর এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

“আগামী ২৪ ঘন্টায় মধ্যাঞ্চলের ৪টি জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। জেলাগুলো হল টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর,” বেনারকে বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান ভূইয়া।

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “পদ্মা এবং এর শাখা ও উপনদীগুলোর পানি বাড়ছে।”

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বেনারকে জানান, “জেলার কিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সামান্য কমেছে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত আছে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার বেনারকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কিছু কমলেও তা এখনো বিদৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে বন্যায় সিরাজগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার ৩১ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে বেনারকে জানান জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

এছাড়া প্রায় তিন শ ঘরবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সাড়ে ১৬ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ তলিয়ে গেছে এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।”

বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ১২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট লাঘবে সবধরণের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

জামালপুরের ৭ উপজেলার ৪৩ টি ইউনিয়নের তিন লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে বেনারকে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী।

তিনি বলেন, “কোথাও কোথাও নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকার রাস্তাঘাটও এখন পানির নিচে।”

“জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে,” বলেন নায়েব আলী।

এদিকে “বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অন্তত চল্লিশ লাখ মানুষ বন্যার হুমকিতে পড়েছেন,” বলে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে জানায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস (আইএফআরসি)।

“কোভিড ১৯ এর কারণে গভীর সংকটে থাকা দেশটির জন্য এটি একটি বড় আঘাত,” বলা হয় ওই বিবৃতিতে।

কষ্টে আছে মানুষ

করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের দৈনন্দিন কর্মযজ্ঞে ভাটা পড়ায় লাখ লাখ মানুষের আয়ের পথ রুদ্ধ হয়েছে। চলাচল সীমীত হওয়ায় দিনমজুর শ্রেণির মানুষ গত তিন মাস ভিন্ন জেলায় গিয়ে কাজ করার সুযোগ পাননি।

এরকম পরিস্থিতিতে বন্যা দেখা দেওয়ায় মানুষ বড় রকমের সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ত্রাণকর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে “গ্রামাঞ্চলে মানুষের সংখ্যা বেড়েছে,” বলে বেনারকে জানান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী।

“যারা ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটসহ বিভিন্ন নগরীতে কাজ করত, তাদের অনেকেই করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে গ্রামে চলে এসেছে,” জানিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু গ্রামে কাজের সুযোগ বাড়েনি।”

“গত তিন মাস আমাদের অঞ্চলের দিনমজুররা অন্য জেলায় গিয়ে কাজ করতে পারেনি। করোনার ভয়ে চলাচল কম, বাইরের মানুষকে কাজে নিচ্ছে না কেউ। ঘরে বসে থেকে সঞ্চয় শেষ করেছে। এর মধ্যে বন্যা আসায় দুর্ভোগ বেড়েছে,” বলেন আইয়ুব আলী।

“করোনা পরিস্থিতিতে গত তিন মাসে শ্রমজীবী মানুষের কাজকর্মের সুযোগ কমে গেছে। এর মধ্যে বন্যা দেখা দেওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষের সংকট বেড়েছে,” বেনারকে জানান কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম।

তবে সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার আগে থেকেই সতর্ক ছিল জানিয়ে তিনি বলে, “আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। তাই ত্রাণ তৎপরতা শুরুর ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দেরি করা হয়নি।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন