Follow us

‘ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণবাদে’ ঝুঁকছে অনেকগুলো দেশ: ফ্রিডম হাউস

বেনারনিউজ স্টাফ
ওয়াশিংটন ডিসি
2018-11-01
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
এপি

চলতি বছর বিশ্বের অনেকগুলো দেশই চীনকে অনুসরণ করে ইন্টারনেটে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণবাদের’ দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও একটি, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রিডম হাউস।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই সংস্থাটি চলতি সপ্তায় অনলাইনে প্রকাশিত ‘দি রাইজ অব ডিজিটাল অথরিটেরিয়ানিজম’ বা ‘ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণবাদের উত্থান’ র্শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করে।

বিশ্বের ৬৫টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশগুলোর মধ্যে ৩৬টির নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই বছর ইন্টারনেটে স্বাধীনতার অবনতি ঘটেছে।

জরিপে গত বছরের পয়লা জুন থাকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

“ডিজিটাল যুগে চাপের মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র, যেখানে চীন তথ্য প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি সংক্রান্ত তার নিজস্ব মডেল দেশের ভেতরে আরোপের পাশাপাশি অন্য দেশেও রপ্তানি করছে,” বিবৃতিতে বলেন ফ্রিডম হাউসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল জে আব্রামইজ।

প্রতিবেদনটির মতে ইন্টারনেট মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ক্ষেত্রে সবার উপরে রয়েছে চীন।

“২০১৮ সালে ইনটারনেট মাধ্যমে স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীন আবারো সবার চেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থায় রয়েছে,” বলেন ফ্রিডম হাউসের প্রযুক্তি ও গণতন্ত্র বিষয়ক গবেষণা পরিচালক অড্রিন শাহবাজ।

মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিনিয়তই অনেকগুলো দেশ নতুন নতুন আইন ও নীতিমালা তৈরি করছে বলে জানায় এই প্রতিবেদন। এ প্রসঙ্গে খ্যাতিমান বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত আগস্টে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকে সমর্থন করে ফেসবুক লাইভ ও আন্তর্জতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেবার কয়েক ঘণ্টা পরই ৫ আগস্ট রাতে শহিদুল আলমকে ঢাকায় তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বারবার আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত তাঁর জামিন মঞ্জুর হয়নি।

শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাবাস।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশে সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের সমালোচনা করে বলা হয়, এই আইনটি পূর্ববর্তী তথ্য প্রযুক্তি আইন থেকেও নিষ্ঠুর।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন