Follow us

শ্রমিক-বান্ধব শ্রম আইন করবে বাংলাদেশ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2017-06-14
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিজিএমইএ ঘেরাও করেন গার্মেন্টস শ্রমিকেরা। জুন ০৯, ২০১৭।
বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিজিএমইএ ঘেরাও করেন গার্মেন্টস শ্রমিকেরা। জুন ০৯, ২০১৭।
নিউজরুম ফটো

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচে বড়ো বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের মুখে ট্রেড ইউনিয়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমান শ্রম আইন ও ইপিজেড আইন সংশোধন করবে সরকার।

আইন মন্ত্রী আনিসুল হক গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সভায় বাংলাদেশের পক্ষে এই অঙ্গীকার করেন।

“উল্লে​​খিত দুটি আইনেই দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক কারখানাসহ সব শিল্প কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া সহজ করা হবে,” টেলিফোনে বেনারকে জানিয়েছেন জেনেভায় অবস্থানরত শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জেনেভায় অনুষ্ঠিত সভায় জানান, আইএলও এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান শ্রম আইন সংশোধনের লক্ষে একটি খসড়া আগামী আগস্ট মাস নাগাদ চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি বলেন “সংশোধিত শ্রম বিলটি আগামী বছর সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে (জানুয়ারি) পাশ করা হবে।”

একইভাবে আগস্ট মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিলের খসড়া প্রস্তুত করবে বলেও জানান তিনি।

“আইন মন্ত্রী সভায় বলেন, বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিলটি এ বছর ডিসেম্বর নাগাদ পাশ করা হবে,” বেনারকে জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

“আইএলও সভায় শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল পাশের সময়সীমা দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক,” বেনারকে বলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সুলতান আহমেদ।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলে সরকার ট্রেড ইউনিয়নকে নিরুৎসাহিত করছে—এমন অভিযোগ করে আসছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন ও বিদেশি দূতাবাসগুলো।

তাদের আরও অভিযোগ, সরকার ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের ‘আন ফেয়ার লেবার প্র্যাকটিস’ এর মাধ্যমে হয়রানি করছে।

গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইনি সংস্কারের মাধ্যমে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সকল শিল্প কারখানায় ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া সহজ না করলে বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বাতিলের হুমকি দেয়।

এরপর ৮ মে জাতীয় সংসদে পাশের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬ সংসদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। এই আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া জটিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।

আইএলও ঢাকা অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে বলেন, আইএলও অনেক দিন ধরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছে।

এ ছাড়া, ‘আন ফেয়ার লেবার প্র্যাকটিস’ বন্ধসহ ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের হয়রানির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

“আমাদের আরেকটি দাবি হলো ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে,” তিনি বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সুলতান আহমেদ বেনারকে বলেন, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন করা একজন শ্রমিকের অধিকার। তা ছাড়া বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিলে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে ফেডারেশন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পাশাপাশি শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার আসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার থেকে। এর অধিকাংশই আসে জিএসপি সুবিধার আওতায়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র গবেষক নাজনীন আহমেদ বেনারকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো শ্রম আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের কথা হলো, “আমাদের শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানের নয়।”

“ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে জিএসপি সুবিধা বজায় রাখা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য, তৈরি পোশাক, জিএসপি সুবিধার কারণে ব্যাপক বাজার পেয়েছে,” নাজনীন বলেন।

ওই গবেষক মনে করেন, এখন আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে জিএসপি সুবিধা বাতিল হয়ে গেলে তা হবে অপূরণীয় ক্ষতি।

“তাই সরকারের উচিত আইএলও’র গাইডলাইন অনুযায়ী আমাদের শ্রম আইন সংশোধন করা।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন