Follow us

পোশাক শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2018-09-13
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
নূন্যতম ১৮ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
নূন্যতম ১৮ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
নিউজরুম ফটো

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২ হাজার ৭০০ টাকা বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা এ খাতের বিদ্যমান ন্যূনতম মজুরির ৫১ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের পঞ্চম সভায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দর-কষাকষির পর পোশাক শ্রমিকদের এই মজুরি চূড়ান্ত হয়। এরপর শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেন।

আসছে ডিসেম্বরে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে বলে সাংবাদিকদের জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়।

এবার ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি করে আসছিল শ্রমিক সংগঠনগুলো। এর বিপরীতে পোশাক শিল্প মালিকেরা ৬ হাজার ৩৬০ টাকা প্রস্তাব করে। তবে গবেষণা সংস্থা সিপিডি ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা করার পক্ষে মত দেয়।

নতুন মজুরি কাঠামো মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষ মেনে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তবে এরই মধ্যে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বেনারকে বলেন, “ন্যূনতম মজুরি আমাদের চাহিদা অনুযায়ী হলো না। আমরা এই মজুরি ১৬-১৮ হাজার টাকা করার যে দাবি জানিয়ে আসছিলাম তা অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। জীবনযাত্রার মানের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল।”

তিনি বলেন, “মজুরি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বাড়ি ভাড়াসহ দ্রব্য মূল্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। দাবি অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি পেলে সে চাপ কিছুটা সামলানো যেত।”

বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বেনারকে বলেন, “সকল পক্ষের সম্মতিতেই পোশাক খাতের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। তাই এ নিয়ে আপত্তি ওঠার কোনো প্রশ্ন নেই।”

উত্তরা আজিমপুর এলাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মী মনজু বেগম বেনারকে বলেন, মাত্র কয়েক মাস হলো আমি হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। বেতন মাত্র ৫ হাজার টাকা। কিন্তু এই টাকায় রাজধানীতে বাসা ভাড়া দিয়ে জীবন যাপন করা খুব কষ্টের।

তিনি বলেন, “বস্তির ছোট্ট একটি রুমে গাদাগাদি করে ছয়জন থাকি। এতে ভাড়া বাবদ কিছু কম খরচ হয় বটে। কিন্তু থাকাটা অত্যন্ত নিম্নমানের।”

ডিসেম্বর থেকে বেতন বৃদ্ধি হবে শুনে কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন মনজু।

“তবে সেটা অন্তত ১০-১২ হাজার টাকা হলেই কিছুটা ভালোমতো বাঁচতে পারতাম,” বলেন তিনি।

পাঁচ বছর পর গত জানুয়ারিতে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্মূল্যায়নে মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। এরপর থেকে বোর্ডের সদস্যরা মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছেন। বৃহস্পতিবার মজুরি বোর্ডের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন, বোর্ডে মালিকদের প্রতিনিধি বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, শ্রমিকদের প্রতিনিধি শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূইয়া।

শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা; চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা; যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা; খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার কেবল ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য শ্রমিকদের বেতন-কাঠামো পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পোশাক খাত থেকে রপ্তানির আয়ের ৮৪ শতাংশ আয় করে। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।

১৯৯৪ সালে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ছিল ৯৩০ টাকা। ২০০৬ সালে তা বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। এরপর ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা করা হয়। পরে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ৫ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি নির্ধারিত হয়েছিল।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন