Follow us

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2017-10-31
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ভাষণরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ফাইল ফটো/ফোকাস বাংলা

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি এখন ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’। গতকাল সোমবার প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিসহ বিশ্বের আরও ৭৭টি দলিলকে ইউনেসকোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক এই সংস্থা।

ইউনেসকোর ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ড. আব্দুল্লাহ আলরাইসির নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিটি সব মহাদেশ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন দলিলাদি ও রেকর্ড পরীক্ষা করে ওই ৭৮টি আবেদনকে নির্বাচিত করে। এর মাধ্যমে ইউনেসকোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত দলিলের সংখ্যা বর্তমানে ৪২৭ টি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে থেকে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার হলো বৈশ্বিক তাৎপর্য আছে, এমন দলিলাদির রেজিস্ট্রার। এই রেজিস্ট্রার তৈরির উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন অংশে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি সংরক্ষণ ও সেগুলো মানুষের ব্যবহার উপযোগী করে রাখা। এই রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ইউনেসকোর কাছে প্রমাণ করতে হবে যে দলিলটির একটি ঐতিহ্যিক গুরুত্ব আছে।

“এর মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে আগ্রহী হবে,” বিবৃতিতে বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইউনসকোর এই স্বীকৃতি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ভাষণরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। [ফাইল ফটো/ফোকাস বাংলা]
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় ভাষণরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ফাইল ফটো/ফোকাস বাংলা

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অধিকারের স্বীকৃতি

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে ওই ভাষণ দিয়ে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে, কিন্তু সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর না করে সংসদের অধিবেশন মুলতবি করেন। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের হত্যা করে।

ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

এই ভাষণের পর বঙ্গবন্ধু আর জনসমাবেশ করতে পারেননি। ২৫ মার্চ রাতে তাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরিচালনা করে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার।

“বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে দেশের মুক্তিকামী মানুষকে স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছেন। এই ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিল,” বিবৃতিতে বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ইউনেসকোর এই স্বীকৃতিকে একটি বিরাট অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালে ইউনেসকো আমাদের শহীদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। আর ওই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্বে ভাষার বহুত্ববাদের বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।”

“বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের বা স্বাধিকারের অধিকারকে স্বীকৃতি দিল,” বলেন ড. আনোয়ার হোসেন।

বাংলাদেশের চার ঐতিহ্য এখন বৈশ্বিক

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ এখন বাংলাদেশের চারটি ঐহিত্য বৈশ্বিক ঐতিহ্য হিসেবে গণ্য হলো।

এর আগে ১৯৯৭ সালে ইউনেসকো বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেসকো বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন