Follow us

মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমানকে মালয়েশিয়া প্রবেশে বাধা

প্রাপ্তি রহমান
ঢাকা
2017-07-20
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ আগস্ট ২০১৩।
২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করায় অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ আগস্ট ২০১৩।
সৌজন্যে: অধিকার

মানবাধিকার কর্মী আদিলুর রহমান খানকে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন পুলিশ তাঁকে সেখানে আটকে রাখে। এরপর রাতে ওই উড়োজাহাজ সংস্থার ফিরতি ফ্লাইটে তাঁকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়।

অধিকারের সমন্বয়কারী সাজ্জাদ হোসেন স্থানীয় সময় রাত এগারোটায় বেনারকে জানান, “আদিলুর রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তবে তিনি এই মুহূর্তে কথা বলবেন না।”

আদিলুর রহমান মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সাধারণ সম্পাদক। ঠিক কী কারণে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হলো সে সম্পর্কে গতকাল রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (অভিবাসন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুকিত হাসান খানও এ বিষয়ে বেনারকে পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারেননি।

অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান গত রাতে বেনারকে বলেন, অ্যান্টি-ডেথ পেনাল্টি এশিয়া নেটওয়ার্ক (এপিডিএন) আয়োজিত মৃত্যুদণ্ড রহিত করার বিষয়ে দুই দিনের এক সেমিনারে যোগ দিতে গতকাল মালয়েশিয়ায় পৌঁছান আদিলুর রহমান। আজ শুক্রবার থেকে ওই সেমিনার শুরুর কথা।

তিনি বলেন, মাস ছয়েক আগেও আদিলুর মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন মানবাধিকার ইস্যুতে কথা বলতে। তখন তিনি নির্বিঘ্নে দেশে ফিরেছেন।

কুয়ালালামপুর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, গতকাল ভোরে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আদিলুর রহমান খানকে আটক করা হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, যেসব বিদেশির মালয়েশিয়ায় ঢুকতে বাধা আছে, ওই তালিকায় আদিলুর রহমানের নাম রয়েছে। তাই তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

মালয়েশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন সুয়ারা রায়কাত মালয়েশিয়া (সুয়ারাম) এক বিবৃতিতে জানায়, তাঁকে আটকের পর বিমানবন্দরে অভিবাসন পুলিশের হাজতে রাখা হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আদিলুর রহমানকে মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানায়। তাঁকে আটকে দেওয়ায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বারসিহ ২.০। মালয়েশিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্দেশ্যে গড়া এই মঞ্চের সঙ্গে তিনটি বেসরকারি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এই সংস্থাগুলো হলো সুয়ারা রাকইয়াত মালয়েশিয়া, ওমেনস ডেভেলাপমেন্ট কালেকটিভ, রাইটার্স অ্যালায়েন্স ফর মিডিয়া ইনডিপেনডেন্স।

“মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে কেন আটকে রেখেছে আমরা জানার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত আমরা আটক করার কারণ সম্পর্কে জানতে পারিনি। তাঁর কাগজপত্রে কোনো ভুল থাকলে বাংলাদেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষই তাঁকে বাংলাদেশ ছাড়তে দিত না। তাই কাগজপত্রে ভুল হওয়ার কথা না,” মুকিত হাসান খান বেনারকে বলেন।

অধিকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁদের আশঙ্কা মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ আদিলুরকে হুমকি বলে মনে করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি অভিবাসীরা সে দেশে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একজন বাংলাদেশি মানবাধিকার কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়ে মুখ বুঁজে নাও থাকতে পারেন। তা ছাড়া তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী। হয়ত মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ মনে করেছে, তিনি সে দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য আইনি সহায়তা দেবেন।

অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় কাজ করছে কারাম এশিয়া। কারাম এশিয়ার দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়ক হারুন অর রশিদ এ বিষয়টির খোঁজখবর রাখছিলেন। তিনি বলছিলেন, ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশিদের সে দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।

“মালয়েশিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীরা সমস্যায় রয়েছেন। আদিলুর রহমান খান শুভ্র সম্মেলনে অংশ নিতে এসে ওই অভিবাসীদের মতো ঝামেলায় পড়েছেন। তিনি ওই তালিকার সর্বশেষ সংযুক্তি,” হারুন অর রশিদ বেনারকে বলেন।

এদিকে বারসিহ ২.০ বলছে, সরকার ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা প্রতিরোধ করে আসছে। মনে হচ্ছে, আদিলুর রহমান খান শুভ্রর আটকাদেশ তারই অংশ। ২০১৫ সালের পর থেকে ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার কর্মী মুগিয়ান্ত সিপিন, হংকং এর ছাত্রনেতা জশুয়া ওং ও সিঙ্গাপুরের মানবাধিকার কর্মী হ্যান হুই হুইকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলেও ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আদিলুর রহমান ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রকাশের দায়ে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন