Follow us

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন সংশোধনের অঙ্গীকার

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2019-07-31
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে র‍্যাব। ৬ জুন ২০১৮।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকার শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করছে র‍্যাব। ৬ জুন ২০১৮।
[এএফপি]

বাংলাদেশ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার অঙ্গীকার করেছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচেনা সভায় বাংলাদেশের পক্ষে সমাপনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা জানান।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গল ও বুধবার এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আইনমন্ত্রী জানান, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারের আগে বন্দী থাকাসহ মানবাধিকারের বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘ কমিটির অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নির্যাতন বিরোধী কমিটির (কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার, ক্যাট) কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোট মানবাধিকার ফোরাম একটি রিপোর্ট পেশ করেছিল।

সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর চার বছর পর পর রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও ১৯৯৮ সালে সনদ অনুমোদনের পর গত ২১ বছরে বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। গত ২৩ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো পেশ করা প্রতিবেদনে দেশে নির্যাতনবিরোধী যেসব প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হয়।

নিয়মানুযায়ী প্রথম দিনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকার তার অবস্থান জানিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বুধবার তার ওপর উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী। অধিবেশনটি চলে প্রায় তিন ঘন্টা জুড়ে।

হেফাজতে নির্যাতন বন্ধে আইন (২০১৩ সালের আইন) সংস্কারে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, “আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর, হ্যাঁ।”

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বিবিসির সাবেক সাংবাদিক কামাল আহমেদ। ঢাকা থেকে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, হেফাজতে নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন নির্যাতন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কী জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ?

“সরকার যা বলেছে তার সারমর্ম হলো, নির্যাতনের ব্যাপারে সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। নির্যাতন রোধে বিভিন্ন আইনের কথা বলেছে তারা। আরও বলেছে, অন্যায় করলে বিচার হচ্ছে,” বেনারকে বলেন কামাল আহমেদ।

তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সরকারের জবাব দেওয়ার মধ্য দিয়ে নয়, সেসবের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আসল সমাধান নিহিত।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বেনারকে বলেন, “সরকারের এই ধরনের জবাবের ওপর আমরা আস্থা রাখতে পারি না। কারণ, বিভিন্ন ফোরামের আলোচনায় একই উত্তর সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না।”

“সমস্যা সমাধানের জন্য যে আন্তরিক উদ্যোগগুলো সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া দরকার, তার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত আহ্বান করা হলেও সরকার সে উদ্যোগ নেয়নি,” বলেন তিনি।

জেনেভার ওই বৈঠকে উপস্থিত এক সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে জানান, পুলিশ ও র‍্যাবের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া কমিটি বাংলাদেশে হেফাজত ও বিচারবহির্ভূত হত্যা, রিমান্ডে নির্যাতন, অঘোষিত আটক রাখা, গুম, কারাগারের দুরবস্থা, বিচারকদের স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয়ে জানতে চায়। এসব প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

ওই সংবাদিক জানান, “বৈঠকে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে হেফাজতে নির্যাতন ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে, তবে ওইসব অভিযোগ ভিত্তিহিন বলে জানান আইনমন্ত্রী।”

অধিবেশনের প্রথম দিন আইনমন্ত্রী জানান, র‍্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ৯৪টি অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। এছাড়া ২০১৩ সালের পর বিভিন্ন অভিযোগে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্যকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মামলা জটের কারণে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে জামিনের বিষয়টি কিছু ক্ষেত্রে বিলম্বিত হয়। যদিও নতুন আদালত গঠন এবং বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর হচ্ছে।

কমিটি আগামী সপ্তাহে তাদের পর্যবেক্ষণ চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করবে। অগ্রাধিকার হিসাবে কমিটি তিনটি সুপারিশ করবে যা আগামী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হবে। বাকি সুপারিশগুলো আগামী চার বছরে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী ওই কমিটি।

প্রতিবেদন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ঢাকা থেকে প্রাপ্তি রহমান

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন