Follow us

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে রাস্তায় সম্পাদকেরা

পুলক ঘটক
ঢাকা
2018-10-15
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্পাদকদের মানববন্ধন। ১৫ অক্টোবর ২০১৮।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্পাদকদের মানববন্ধন। ১৫ অক্টোবর ২০১৮।
বেনারনিউজ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।

দেশের প্রথম সারির প্রায় সকল পত্রিকার সম্পাদক এই মানববন্ধনে অংশ নেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সম্পাদকদের রাজপথে কর্মসূচি পালনের এটাই প্রথম দৃষ্টান্ত।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও তা সংশোধনের ব্যাপারে সরকার মোটেই নমনীয় নয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সাংবাদিকদের উদ্বেগ এবং সম্পাদকদের মানববন্ধনের বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও আইনটি সংশোধনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য অনুল্লেখিত সূত্রের বরাত দিয়ে অনেক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে মন্ত্রীদের কেউ এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।

মানববন্ধনের দাবিনামা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা সংশোধন করার দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। মানববন্ধনে পরিষদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম।

“এ আইন বলবৎ থাকলে প্রেস মিডিয়া, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়াসহ কেউ-ই আমরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারব না,” বলেন মাহ্‌ফুজ আনাম।

তিনি বলেন, “বর্তমান আইনটি শুধু সাইবার জগৎ নয়, মানুষের কণ্ঠরোধ করার আইন। আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে এ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।”

তিনি বলেন, “আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। আমরা এ আইনটির বিশেষ কতগুলো ধারার সংশোধন দাবি করছি।”

বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই এসব সংশোধনী আনার জন্য দাবি জানান সম্পাদকেরা।

যেসব দাবিতে মানববন্ধন

সম্পাদক পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে; সংবাদ প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।

এছাড়া সংবিধানে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, এই আইনে সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যকভাবে করতে হবে।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের রাজপথে দাঁড়ানোর নতুন এই নজির স্থাপনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বেনারকে বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। সংবাদপত্র এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা রক্ষায় সম্পাদকদের আজকের ভূমিকা তার থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।”

আর কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত নয়।”

বিষয়টি সাংবাদিকদের সবার উদ্বেগ হলেও সম্পাদকেরা এককভাবে কেন কর্মসূচি দিচ্ছেন জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান থেকে চেষ্টা করছি। সাংবাদিকদের অন্যান্য সকল সংগঠনের উচিত তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করা।”

নতুন কর্মসূচির সম্ভাবনা সম্পর্কে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, “সরকার এখন কী করে আমরা তা দেখতে চাই। সেটা দেখে পরবর্তী কর্মসূচির ব্যাপারে ভাবা হবে।”

মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারার বিষয়ে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতাদের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এ আইনতো জাতীয় সংসদে পাস হয়ে গেছে। এখনই এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার কী আছে?

শেখ হাসিনা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কোনো বাধা হবে না।

কারও নাম উল্লেখ না করে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

“বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে আজ আমি কিছু বলব না। কাল (মঙ্গলবার) বলতে পারি,” বেনারকে বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্যাখ্যা করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বিষয়টি আলোচনার জন্য বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশনের মিশন প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছিল।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন