Follow us

রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ঢাকায় রাজনাথ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-07-13
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁকে স্বাগত জানান। ১৩ জুলাই ২০১৮।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁকে স্বাগত জানান। ১৩ জুলাই ২০১৮।
সৌজন্যে তথ্য অধিদপ্তর

সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক চোরাচালানসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রাজনাথ এমন এক সময় বাংলাদেশ সফর করছেন যখন এ দেশের আসন্ন নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, “নির্বাচনের আগে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর গুরুত্বপূর্ণ। দুদিন আগে খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে ভারতে ঢুকতে দেয়নি সে দেশের সরকার।”

লর্ড কার্লাইল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ‘অন্যায়ভাবে’ সাজা দেওয়া প্রসঙ্গে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

ড. আতাউর বলেন, “এই সফর আগে থেকে নির্ধারিত হলেও ঘটনার দুদিন পরে রাজনাথ সিংয়ের এই সফর আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের জোরালো সমর্থনের বার্তা দেয়।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাথে দেখা করবেন, রাজনাথ বিরোধী কারও সাথে সাক্ষাত করছেন না।”

“সারা বিশ্বে ছোট দেশগুলো এখন বিপদে আছে। নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এসব দেশের ওপর বড় শক্তির প্রভাব থেকে যায়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়,” বলেন ড. আতাউর।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে। সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের ভারত সফর বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারত সফর করেছেন, এর আগে সফর করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল।

এদিকে গত জুনের প্রথম সপ্তাহে বিএনপির তিন নেতা; স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দিল্লি সফর করেন। ভারতের ‘থিংক ট্যাংক’ বলে পরিচিত কয়েকটি সংগঠনের কর্তাদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন।

দিল্লী ও ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বিএনপি নেতারা ভারতকে বোঝাতে চেয়েছেন, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে ভারত সম্পর্কে বিএনপির মনোভাব যা ছিল, তা অতীত। ভারতবিরোধিতার যে সুর তাঁদের মধ্যে ছিল, তা ছিল ‘ভুল’। অতীতের সেই ভুল শুধরে তাঁরা নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যার ভিত্তি হবে ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা’। তাঁরা চান, ভারত নিজের স্বার্থেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সমর্থন করুক, কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নয়।

বিএনপি নেতাদের ভারত সফরের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক বির্তক জোরদার হয়।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেনারকে বলেছেন, “রাজনীতি​তে ভারত নিয়ে বিতর্ক আছে, থাকবে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের নির্বাচন বা রাজনৈতিক কোনও বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।”

“ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে সীমান্ত সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জাল মুদ্রার বিস্তার রোধ, মানব পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারত একসাথে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হবে,” জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকালে ট্রাভেল এগ্রিমেন্ট-২০১৮ স্বাক্ষর হওয়ার কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এই এগ্রিমেন্ট অনুসারে বাংলাদেশিদের জন্য ভারত সফর আরও সহজ হবে।

রাজনাথের সফরসূচি

প্রাপ্ত সফরসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বিশেষ কর্মসূচি নেই। শনিবার সকাল দশটায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করবেন রাজনাথ সিং।

সাড়ে ১১টায় মন্ত্রী সিং ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান যৌথাভাবে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নতুন কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাটি এবং রাজশাহী​র সারদা পুলিশ একাডেমিতে যাবেন।

বিকালে রাজশাহী থেকে ঢাকা ফিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া নৈশ ভোজে অংশ নেবেন।

রোববার সকালে তিনি বঙ্গবন্ধু যাদুঘর পরিদর্শন করবেন এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা করবেন। সেদিন সাড়ে দশটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। সেখানে সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাস দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া বৈঠক শেষে কিছু সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর হতে পারে বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।

ঢাকার নতুন ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র

ঢাকায় বর্তমানে মতিঝিল, উত্তরা, গুলশান ও শ্যামলীতে চারটি ভারতীয় ভিসা আবেদনপত্র গ্রহণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। যমুনা ফিউচার পার্কে নতুন ভিসা কেন্দ্র উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এগুলো বন্ধ হবে বলে ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য বিদ্যমান ই-টোকেন ব্যবস্থাও প্রত্যাহার করা হবে।

মতিঝিল ও উত্তরার ভিসা আবেদন কেন্দ্র দুটি ১৫ জুলাই থেকে এবং গুলশান এবং শ্যামলীর ভিসা আবেদন কেন্দ্র ৩১ আগস্টের মধ্যে নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হবে। সেপ্টেম্বর থেকে এটিই হবে ঢাকায় একমাত্র ভিসা আবেদন কেন্দ্র।

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক দূত আসছেন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ ডেস্কের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান শুক্রবার বেনারকে বলেন, মিয়ানমার সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন স্ক্রানার বারজেনার শনিবার তিনদিনের সফরে ঢাকা আসছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ দূত গতকাল আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তাঁর সফর পিছিয়ে শনিবার নিয়ে গেছেন।

মহাপরিচালক বলেন, বিশেষ দূত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে ও তাঁদের সাথে কথা বলতে কক্সবাজার যাবেন।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আসছেন

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউরি ইভানভিচ বরিসভ রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার রাতে ঢাকায় আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন। রাশিয়ার সহায়তায় ওই বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন কাজ চলছে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন