Follow us

খাদিজার ওপর হামলার দায়ে বদরুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
Dhaka
2016-11-08
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
খাদিজাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে জাতীয়বাদী মহিলা দলের মানববন্ধন। অক্টোবর ০৬, ২০১৬।
খাদিজাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে জাতীয়বাদী মহিলা দলের মানববন্ধন। অক্টোবর ০৬, ২০১৬।
নিউজরুম ফটো

কড়া সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর হামলার মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

গত ৩ অক্টোবর বিকেলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা পরীক্ষা দিয়ে এমসি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের হলে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করেন ছাত্র নেতা বদরুল। ওই যুবককে ধরে পুলিশে দেন স্থানীয় জনতা।

সংকটাপন্ন অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে খাদিজা ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পরদিন ৪ অক্টোবর সিলেটের শাহপরান থানায় মামলা করেন খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস। ওই ঘটনার পর থেকে নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মঙ্গলবার আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। স্থানীয় সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা।

মোট ৩৬ জনকে ওই ঘটনার সাক্ষী করা হয়েছে। এ ছাড়া খাদিজাকে কোপানো চাপাতি, রক্তমাখা জামা ও ঘটনার তিনটি ভিডিও ফুটেজ আলামত হিসেবে আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বেনারকে বলেন, “খাদিজার ওপর বদরুলের হামলা করার একাধিক প্রমাণ মিলেছে। তবে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে বদরুলকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে।”

তিনি জানান, “হামলার দায় স্বীকার করে বদরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার ভিডিও ফুটেজও পুলিশ সংগ্রহ করেছে, যা থেকে তার অপরাধ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।”

এক সপ্তাহ পরেই সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মফুর আলী বেনারকে বলেন, “আগামী ১৫ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ দিয়েছে আদালত। সেদিনই চার্জশিটের ওপর শুনানি হবে। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করলে ওই দিন থেকে মামলার বিচার কাজও শুরু হবে।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র বদরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিল। খাদিজার ওপর ওই নির্মম হামলার পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় পদ থেকেও সাময়িক বহিষ্কার হয় এই ছাত্র নেতাকে।

খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার দাবি বদরুলের। তবে খাদিজার পরিবার বলছে, প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় বদরুল এই হত্যা চেষ্টা চালায়।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, খাদিজাকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত বদরুল। এরই এক পর্যায়ে খাদিজাকে সে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।

খাদিজার অবস্থার উন্নতি

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো বলে জানিয়েছেন তার মা মনোয়ারা বেগম।

মঙ্গলবার রাতে তিনি বেনারকে জানান, “খাদিজা এখন একটু একটু কথা বলে। অল্প খাবার খায়।”

শুরুর দিকে খাদিজাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার তার বাম হাত, বাম পা এবং মাথায় অস্ত্রোপচার হয় বলে জানান তার মা।

উপযুক্ত শাস্তি দাবি

দ্রুত বিচারের মাধ্যমে খাদিজার ওপর হত্যাচেষ্টাকারী বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এসব ঘটনায় আরও দ্রুততম সময়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করার পরামর্শও দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বেনারকে বলেন, “দিনে দুপরে খাদিজাকে কোপানো হয়। যার ভিডিও ফুটেজসহ অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছে। অথচ এমন ঘটনার অভিযোগপত্র দিতেও পুলিশের এক মাস সময় লেগেছে। এই সময়ক্ষেপণ অপরাধীকে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।”

তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি করার সুফল নিয়ে যাতে খাদিজা হত্যা চেষ্টাকারী বদরুল পার পেয়ে না যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন