Follow us

ইন্দোনেশিয়ায় আটক অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশ পাঠানো হতে পারে

তিয়া আসমারা ও কামরান রেজা চৌধুরী
জাকার্তা ও ঢাকা
2019-02-07
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের মেদান শহরের একটি পুলিশ স্টেশনে আটক বাংলাদেশিদের কয়েকজন। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের মেদান শহরের একটি পুলিশ স্টেশনে আটক বাংলাদেশিদের কয়েকজন। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
[এএফপি]

ইন্দোনেশিয়ায় আটক আড়াইশোর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে, আটকরা সকলে হয়ত বাংলাদেশি নন, অনেকে জাল পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাও হতে পারেন।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী মেদান এর একটি দোকানঘরে গাদাগাদি করে থাকা ১৯৩ জনকে আটক করে দেশটির পুলিশ। পরদিন শহরের অন্য একটি এলাকা থেকে আরো ৫৯জনকে আটক করা হয়।

আটকরা নিজেদের বাংলাদেশি এবং তাঁদের পাসপোর্ট রয়েছে দাবি করলেও তাঁরা তা দেখাতে পারেননি বলে বেনারকে জানিয়েছেন উত্তর সুমাত্রা অভিবাসন বিভাগের প্রধান আইকন সিরেগার।

তিনি বলেন, “তাদের চেহারার গঠন ও ভাষা দেখে আমাদের প্রাথমিক ধারণা তারা সবাই বাংলাদেশি। এদের সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।”

তিনি বলেন, “তাদের কাছে কোনো ধরনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তারা বলেছে তাদের পাসপোর্ট ছিল, কিন্তু তারা তা দেখাতে পারেনি।”

“তারা জানিয়েছে, তাঁদের পাসপোর্ট অন্যরা নিয়ে গেছে,” যোগ করেন আইকন।

তিনি জানান, পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা অবৈধ শ্রমিক পাচারের সাথে যুক্ত আন্তর্জাতিক এজেন্ট হতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ।

“তদন্ত শেষে তাদেরকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে,” বলেন আইকন।

তাঁর ধারণা, অভিবাসীরা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাবার উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন বৈধ ও অবৈধ উপায়ে মেদান শহরে এসে পৌঁছেছে। কারণ মেদান শহর মালয়েশিয়ার খুব কাছাকাছি।

বাংলাদেশিদের পাচারের সাথে যুক্ত সন্দেহে একটি শ্রমিক অভিবাসন এজেন্সির বিষয়ে কর্মকর্তারা খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার আইন ও মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থিওডরাস সিমারামাতা।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি আটকের ঘটনা দূতাবাসকে অবহিত করেছে বলে বেনারকে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়াতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আজমল কবির।

“ইন্দোনেশিয় কর্তৃপক্ষ আমাদের বিষয়টি জানিয়েছে। তবে যেহেতু ঘটনাস্থলটি জাকার্তা থেকে বহু দূরে, তাই আমরা এখনো আটকদের সাথে কথা বলতে পারিনি,” বেনারকে বলেন আজমল কবির।

“তারা জানিয়েছে যে আটকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত না তারা বাংলাদেশি কি না। তাদের কাছে জাল পাসপোর্টও থাকতে পারে,” যোগ করেন তিনি।

পাসপোর্টগুলো পাওয়ার পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আটকদের পরিচয় যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে আটকরা বাংলাদেশি না হয়ে রোহিঙ্গাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্কের মহাপরিচালক দেলওয়ার হোসেন।

“আমরা গণমাধ্যম থেকে জেনেছি যে তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে,” জানিয়ে তিনি বেনারকে বলেন, “আমাদের কাছে তাঁদের বিস্তারিত তথ্য নেই। হতে পারে তারা রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি নয়। হয়ত তাঁদের কাছে অবৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে।”

এর আগে গত ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়া থেকে নৌকায় করে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে ৩০ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছিল দেশটির পুলিশ।

গত কয়েক বছর ধরে ১৭০০'র বেশি রোহিঙ্গা সুমাত্রায় রয়েছেন। এদের কেউ কেউ সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশি জাল পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে যাবার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি এরকম ১৩ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব।

মালয়েশিয়া নয়, উদ্দেশ্য ছিল অস্ট্রেলিয়া

অভিবাসীরা মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টা করছিলেন বলে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানালেও আটকদের সাথে কথা বলে এসে এক প্রবাসী বাংলাদেশি বেনারকে জানান, এরা সবাই আগে থেকেই মালয়েশিয়া ছিলেন। তাঁরা অস্ট্রেলিয়া যাবার উদ্দেশ্যেই ইন্দোনেশিয়াতে এসে উঠেছিলেন।

প্রবাসী বাংলাদেশি আবিদ শরফুল মাখলুকাত (৩২) মালয়েশিয়াতে একটি হোটেলে শেফ হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি মেদানে একটি হোটেলে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন। বাংলাদেশি আটকের সংবাদ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সাথে কথা বলেন।

“আমি এক জায়গায় একশোর মতো লোককে দেখেছি। তাদের মধ্যে ১০-১২ জন বাংলাদেশির সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, ওই দলের ৫৫ জন বাংলাদেশি, বাকিরা রোহিঙ্গা, নেপালি ও বার্মিজ,” বেনারকে বলেন শরফুল।

তিনি বলেন, “এরা সকলেই মালয়েশিয়ায় কাজ করত। এদের বেশিরভাগ অবৈধ শ্রমিক হলেও কিছু বৈধ শ্রমিকও আছে। তারা অস্ট্রেলিয়া যাবার চেষ্টা করছিল।”

এরা প্রত্যেকেই দালালকে ১৫-২০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানান শরফুল।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন