বাংলাদেশ থেকে শিগগির কর্মী নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016.11.16
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
বাংলাদেশ থেকে শিগগির কর্মী নেওয়া শুরু করবে মালয়েশিয়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। নভেম্বর ১৫, ২০১৬।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

আসছে ডিসেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ। এর ফলে কর্মী পাঠানো বিষয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  তবে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে সম্প্রতি তৈরি হওয়া উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাজার উন্মুক্ত হওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের সরকারের মধ্যে জি টু জি প্লাস নামে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই কর্মী যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েম নিজ দেশের নয় সদস্যের এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।  মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার নুর আশিকিন বিনতে মোহাম্মদ তায়েব ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

আপাতত নির্মাণ, বনায়ন ও উৎপাদন খাতে কর্মী নেবে বলে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে এবার কী পরিমাণ শ্রমিক নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি দেশটি।

বৈঠক সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া মঙ্গলবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নেওয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। শুধু অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়াসহ বাকি প্রক্রিয়া শেষ করতে যে কয় দিন সময় লাগে, তারপর থেকেই শ্রমিক যাওয়া শুরু হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বেনারকে বলেন, “আশা করছি আগামী দু এক সপ্তাহের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হবে। তবে কী পরিমাণ শ্রমিক তারা নেবে সে বিষয়ে কোন আলাপ হয়নি।”

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  ওই খরচ অনুযায়ীই কর্মী পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দু’দেশ।

এদিকে মালয়েশিয়ার বাজার উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই সেখানে কর্মী পাঠানো বিষয়টি হাতে গোনা কয়েক ব্যবসায়ীর তৈরি সিন্ডিকেটের কাছে যাচ্ছে বলে জনশক্তি রপ্তানি খাতের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অভিযোগ রয়েছে। তবে সে আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মিলে সিন্ডিকেট গঠন করেছে। তারাই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেটা সম্ভব হলে মালয়েশিয়া শ্রমিকদের সরকার নির্ধারিত অর্থের কয়েক গুন বেশি দিতে হবে।

তবে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বেনারকে বলেন, “কোনো ধরনের সিন্ডিকেট আমরা চিনি না। আমরা মালয়েশিয়ার কাছে ৭৪৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পছন্দমতো অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়ে কর্মী পাঠানোর কাজ দেবে দেশটি। সুতরাং কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার সুযোগ নেই। তবে অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার থাকবে।”

দীর্ঘদিন বাজারটি বন্ধ থাকায় অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আর এ কারণেই এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। এতে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটিও স্পষ্ট হবে বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সি আর আবরার বলেন, “আমরা চাই সবার আগে বাজার উন্মুক্ত হোক। তবে সমস্যা হচ্ছে অতীতে যে উদ্বেগ ছিল, তা কীভাবে নিরসন হবে, সে বিষয়ে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। ফলে পুরোনো উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। তবে শিগগির শ্রমিক যাওয়া শুরু হলে প্রক্রিয়াগুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করি।”

এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বা জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। অথচ এর একদিন না পেরোতেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী না নেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। ফলে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত না হতেই আবার বন্ধ হয়ে যায়।

তবে মঙ্গলবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে পুরোনো সব জটিলতা কেটে গেছে বলে বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারিভাবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বেনারকে বলেন, ঘোষণা দেওয়ার পরেও মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এবার জটিলতা কেটে গেছে বলেই মনে হয়। ফলে  শিগগিরই দেশটিতে বিপুলসংখ্যক কর্মী যেতে পারবে।”

তবে কিছুদিন শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রেখে মালয়েশিয়া এ খাতটিকে কিছুটা শৃঙ্খলায় এনেছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। তিনি বেনারকে বলেন, “শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বরং সকল দেশ থেকেই শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখে মালয়েশিয়া। এই সময়টাতে এই খাতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করেছে তারা। এরপরেই দেশটি আবারও শ্রমিক নেওয়া শুরু করেছে। সুতরাং আশা করছি সবকিছু আরও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।