Follow us

আপত্তির মুখে ইপিজেড শ্রম বিল সংসদ থেকে প্রত্যাহার

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2017-05-10
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬ জাতীয় সংসদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মে ০৮, ২০১৭।
বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬ জাতীয় সংসদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মে ০৮, ২০১৭।
ফোকাস বাংলা

রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল সম্পর্কিত একটি শ্রম বিল জাতীয় সংসদ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। জাতিসংঘের শ্রম বিষয়ক সংস্থা-আইএলও, শ্রমিক সংগঠন ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রবল আপত্তির মুখে এক বছরের বেশি আটকে থাকার পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে মিল রেখে সরকার নতুন আরেকটি শ্রম বিল পাশ করবে বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

কৃষিমন্ত্রী ও সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী গত সোমবার রাতে বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬ সংসদ থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। উপস্থিত সংসদ সদস্যরা কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন করেন।

গত বছর ২৪ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। গত রোববার তিনি অধিকতর সংশোধনের মাধ্যমে ‍আইএলও কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে আবার উত্থাপনের লক্ষ্যে বিলটি প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

“বিলটির কিছু কিছু অংশ আইএলওর বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ উঠেছে,” বেনারকে বলেন আব্দুল মতিন খসরু।

দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি বলেন, সমিতি গঠন করা প্রসঙ্গে আপত্তি আছে। তা ছাড়া অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে ফেডারেশন এবং সিবিএ কার্যক্রম বিলে যেভাবে রাখা হয়েছে তা জাতিসংঘের বিধান মোতাবেক হয়নি বলে আইএলও, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিনিয়োগকারীরা আপত্তি তুলেছে।

মতিন খসরু আরও বলেন, আইএলও এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিধি বিধান পালন করতে বদ্ধপরিকর।

“সরকার পরবর্তী সময়ে বিলটি পুনরায় সংসদে পেশ করবে। বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাশ করলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হয়তো বাধার মুখে পড়ত,” জানান সাবেক আ​ইনমন্ত্রী।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বেনারকে বলেন, “ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়নকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে শুরু থেকেই। বিলটি নতুন করে উত্থাপনের সময় আইএলও কনভেনশন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সমন্বয় করার জন্য সরকার সচেষ্ট থাকবে।”

“আমরা এমন আইন করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী, শ্রমিক ও সরকার সবার স্বার্থ সংরক্ষিত হবে,” যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

অনিয়ন্ত্রিত ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক অসন্তোষ রেখে বিদেশি বিনিয়োগ রক্ষা করতে সরকার আশির দশকে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল স্থাপন করে। এই অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ অন্যান্য সুবিধা পান।

এখানকার শ্রমিক ও কর্মচারীরা ইপিজেড এলাকার বাইরের শ্রমিকদের চেয়ে বেশি বেতন পান।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের আওতাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশের আটটি ইপিজেড পরিচালিত হয়। সরকার আরও ৩৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সুলতান আহমেদ বেনারকে বলেন, “আমরা দুইবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এই বিল সম্পর্কে আপত্তি জানিয়ে এসেছি। সরকার শেষ পর্যন্ত বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে, এটা ইতিবাচক।”

সুলতান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিল-২০১৬ তে ট্রেড ইউনিয়নকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন করা একজন শ্রমিকের অধিকার। তা ছাড়া এই বিলে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে ফেডারেশন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

“আমাদের প্রস্তাব হলো শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি শ্রম মন্ত্রণালয় ও শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমেই করতে হবে,” খান বলেন।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বেপজিয়ার একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রম আইন নামে একটি মূল আইন রয়েছে। এ আইন থাকার পরও সরকার কেন ইপিজেডের জন্য পৃথক আইন করছে তা বোধগম্য নয়।”

“তবে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে আমাদের কিছুটা আপত্তি আছে। ঢালাওভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার দেওয়া হলে বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে,” জানান সরকারি ওই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র ট্রেড ইউনিয়ন নেতা রায় রমেশ চন্দ্র বেনারকে বলেন, সরকার কখনোই ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়নি। এখন সরকার তার ইচ্ছামতো আইন করছে।

“আমি মনে করি, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ওপর অন্যায্য কাজ বন্ধ করতে‍ ট্রেড ইউনিয়নের কোনো বিকল্প নেই,” জানান রায় রমেশ।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন