সম্পদের তথ্য গোপন করায় সাংসদের জেল

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016.11.02
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
161102-BD-MP-620 রায় ঘোষণার পর সাংসদ বদিকে কারাগারে পাঠানো হয়। নভেম্বর ০২, ২০১৬।
স্টার মেইল

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বির্তকিত সাংসদ আবদুর রহমান বদিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।

গতকাল বুধবার কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি বদির উপস্থিতিতে দেওয়া ওই আদেশে একইসঙ্গে তাঁকে দশ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, রায় ঘোষণার সময় ওই সাংসদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সরকারি দলের কোনো সংসদ সদস্যের দুর্নীতির দায়ে সাজা পাওয়ার নজির বাংলাদেশে নেই। এদিকে ফৌজদারি মামলায় সাজা পাওয়া বদির সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুই বছর আগে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এমপি বদি তাঁর সম্পদ বিবরণীতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

পরে মামলাটির অভিযোগপত্রে এমপি বদির বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের এবং ঘোষিত আয়ের বাইরে অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

আর দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বদি সম্পদ বিবরণীতে তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যে সম্পদ কেনা দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখান।

সীমান্ত এলাকা উখিয়া-টেকনাফের এমপি বদির ইয়াবা ব্যবসা ও মানব পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা পাচারের হোতা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।

এসব অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমেই তাঁর বিস্তর সম্পদের মালিক হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলেও সেসব অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তিনি।

তবে দুদকের মামলায় অতিরিক্ত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ থেকে বদিকে খালাস দিয়েছে আদালত।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বেনারকে জানান, “এমপি বদির অবৈধ সম্পদের উৎস পাওয়া যায়নি। এ কারণে এ অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।”

তবে সম্পদের তথ্য গোপন করায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহমুদ হোসেন সাংবাদকিদের বলেন, “এ রায়ে আমরা একইসঙ্গে সন্তুষ্ট এবং অসন্তুষ্ট। রায় আমরা যেমনভাবে চেয়েছিলাম, তেমনভাবে পাইনি। বদির আরও বেশি সাজা হওয়া উচিত ছিল।”

অন‌্যদিকে এ রায়ে সংক্ষুব্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে বদির আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।

এ বিষয়ে বেনারকে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মামলার এফআইআর এবং অভিযোগপত্রে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।”

বদির সাজার খবর শুনে তাঁর কিছু কর্মী-সমর্থক প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

প্রভাবশালী এই এমপির সাজা সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “যত প্রভাবশালীই হোক, দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।”

দুদকের করা ওই মামলায় ২০১৪ সালে আত্মসমর্পন করলেও মাত্র ১৯ দিন কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্ত হয়ে বহাল তবিয়তে ছিলেন বদি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছর কারাদণ্ড হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন।

তবে আপিল করার পর সর্বোচ্চ আদালত রায় ঘোষণা না করা পর্যন্ত বিচারিক আদালতের রায় সংসদ সদস্য পদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা।

এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বেনারকে বলেন, “দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে বদি আর এমপি পদে নেই। তিনি এখন অযোগ্য। তবে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।”

তবে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বেনারকে বলেন, “তিনি আপিল করলে সাজা বন্ধ হয়ে থাকবে। কাজেই এখনই তার পদ থাকবে না কেন? আপিলে সাজা স্থগিত না হলে, তাঁর এমপি পদ নিয়ে সমস্যা হতে পারে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।