Follow us

নব্য জেএমবির নারী শাখার দ্বিতীয় প্রধান গ্রেপ্তার

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-03-20
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
পৃথক অভিযানে ঢাকা ও সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির সাথে ঢাকায় র‍্যাব সদস্যরা। ২০ মার্চ ২০২০।
পৃথক অভিযানে ঢাকা ও সিলেট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির সাথে ঢাকায় র‍্যাব সদস্যরা। ২০ মার্চ ২০২০।
[সৌজন্যে: র‍্যাব]

দেশজুড়ে চলমান করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জাময়াতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ এর (জেএমবি) নারী শাখার সেকেন্ড ইন কমান্ডকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানীর গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে শুক্রবার বেনারকে জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম) শেখ ইমরান হোসেন।

আটক শিরিনা খাতুন ওরফে তাহসিন আব্দুল্লাহর (২৩) গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে বলে জানায় ডিএমপি।

এদিকে ঢাকা ও সিলেটে পৃথক অভিযানে আনসার আল ইসলামের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বেনারকে বলেন, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর দারুস সালাম এবং সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা থেকে এই তিনজনকে আটক করা হয়।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কাঠামো ভেঙে পড়লেও উগ্রপন্থীরা থেমে নেই।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বেনারকে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অর্থ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জনগণও সচেতন হওয়ায় তারা কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”

“অবশ্য তার মানে এই নয় যে নাশকতা করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে একজনও নাশকতা সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট। তাই তাদের ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বরাবরের মতো সচেতন থাকতে হবে,” বলেন সাখাওয়াত হোসেন।

অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ ও উদ্বুদ্ধ করা ছিল কাজ

শিরিনা খাতুনকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি মুঠো ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি।

ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরান হোসেন বলেন, “শিরিনা খাতুন নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান আসমানী খাতুনের নির্দেশনায় কাজ করতেন। শিরিনা সেকেন্ড ইন কমান্ড হওয়ার পর দীর্ঘদিন যাবত গোপনে অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ, অনলাইনে জিহাদী ট্রেনিং ও হিজরতে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন।”

অনলাইনে নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা ইসলাম আল হিন্দী, আবু ‍দুজানা ও আবু মোহাম্মদের সাথে শিরিনার যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতিঝিল থানার একটি মামলার এজাহারনামীয় আসামী গ্রেপ্তারকৃত শিরিনাকে শুক্রবার আদালতে তোলা হলে তাঁর তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় বলে জানায় ডিএমপি।

অর্থ সংগ্রহ করতেন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা

পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৪ জানায়, ঢাকা এবং সিলেট থেকে আটক করা আনসার আল ইসলামের সদস্যরা হলেন; গাজীপুরের বাসিন্দা মো. মোতাহার হোসেন ওরফে জামিল হাসান (৩৪), লক্ষীপুরের মো. মুরশিদুল আলম ওরফে শিহাদ ওরফে মুরশিদ (৩৩) এবং সিলেটের সাইফুর রহমান (২২)।

র‌্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে এই সংগঠনের বিভিন্ন উগ্রবাদী বই, লিফলেট এবং ডিজিটাল কনটেন্টসহ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোতাহার হোসেন জানান, তিনি আনসার আল ইসলামের নরসিংদী জেলার আমির পর্যায়ের সদস্য। বর্তমানে তিনি সংগঠনের টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন।

মোতাহার বিভিন্ন কর্মীর মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে আবু জান্দাল নামে প্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে জমা করছিলেন। আবু জান্দাল আটক সাইফুর রহমানের ভগ্নিপতি। মোতাহার ৪-৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন, এমন তিনটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় র‍্যাব।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, আটক তিনজনই দেশের ভেতরে এবং বাইরে জঙ্গি অর্থায়নের সাথে জড়িত। তাঁরা সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে জঙ্গি সংগঠনে অর্থ সরবরাহ করতেন।

এছাড়া তাঁরা অনলাইনে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইলে বিভিন্ন উগ্রবাদী ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গেছে বলেও জানায় র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, মোতাহার ও মুরশিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুরকে সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‍্যাব।

জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ২০০৫ সালে জেএমবিকে নিষিদ্ধ করে সরকার। ২০১৫ সালে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’কে নিষিদ্ধ করা হলে 'আনসার আল ইসলাম' নামে আবার তৎপরতা শুরু করে সংগঠনটি। পরে ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকেও নিষিদ্ধ করে সরকার।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন