Follow us

জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের নয় সদস্য সিলেটে গ্রেপ্তার

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-01-30
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
আটকের পর ‘আল্লাহর দলের’ নয় সদস্যকে সিলেটে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে পুলিশ। ৩০ জানুয়ারি ২০২০।
আটকের পর ‘আল্লাহর দলের’ নয় সদস্যকে সিলেটে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে পুলিশ। ৩০ জানুয়ারি ২০২০।
[বেনারনিউজ]

সিলেট নগরী থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দলের’ নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। পুলিশের দাবি, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে তারা ‘ফান্ড’ তৈরি করছিল।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরের আরামবাগ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে বৃহস্পতিবার বেনারকে জানান অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট নগরীর শাহপরান থানাধীন আরামবাগ ১৭ নম্বর আলেয়া নীড়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।”

“গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। তাঁরা সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত,” বলেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের এই পুলিশ সুপার।

“বাকি পাঁচজন সিলেটের বাইরের, তাঁরা বগুড়া, রাজশাহী থেকে এসে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য একসাথে হয়েছিলেন,” বলেন তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়াদের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগর পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ ও এটিউ পুলিশ সুপার মো. মহিদুজ্জামান।

তাঁরা জানান, গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আল্লার দলের সদস্য বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বারবার জঙ্গি আটক হওয়ার কথা শোনা গেলেও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া অন্ধকারে থেকে যায়। ফলে স্বচ্ছতার সাথে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বেনারকে বলেন, “জঙ্গি আটক ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব সব সময়ই আছে। স্বচ্ছতার অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায়, যাদের আটক করা হয় তাঁরা আসল অপরাধী কি না।”

“আমরা সব সময় বলে আসছি, আসামি ধরা থেকে বিচার পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত,” বলেন তিনি।

“দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। তাতে যদি তারা অপরাধী হয়, শাস্তি পাবে; আর নির্দোষ হলে খালাস পাবে,” বলেন ইশফাক ইলাহী।

বুধবার রাতে সিলেটে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আবুল কালাম আজাদ (২০), মো. জুয়েল আহমদ (২৪), মো. স্বপন আহমদ (২১), মো. কামাল আহমেদ (২৫), মো. জসিম উদ্দিন সুমন (৩০), মো. মানিক আকন্দ ওরফে মেহেদী হাসান মানিক (৩২), মো. জহির উদ্দিন বাবর (২০), মো. আশরাফুল ইসলাম (২৯), মো. রাসেল আহমেদ (২৪)।

সংবাদ সম্মেলনে মাহিদুজ্জামান বলেন, “আটক ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ধর্মীয় উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচার এবং নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সেখানে গোপন বৈঠক করছিলেন।”

“এটিউ দলের কাছে তথ্য ছিল সিলেটে অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন তাঁরা। সে জন্য তাঁরা ‘ফান্ড’ সংগ্রহ করছিলেন,” বলেন তিনি।

“আমরা যতটুকু জেনেছি আল্লার দল নিষিদ্ধ হলেও তারা এখনো পর্যন্ত শক্তি সঞ্চয় করছে। প্রমাণ হিসেবে তাঁদের কাছ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাবিষয়ক দলিল, উগ্রপন্থী বই, কাগজপত্র, মুঠোফোন এবং চাঁদা তোলার রসিদ এবং নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়,” মহিদুজ্জামান বলেন।

তিনি জানান, আটক এসব ব্যক্তির সাথে আর কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পর্ক রয়েছে কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আটকৃতদের হামলার সক্ষমতা কতটুকু ছিল এখনই তার বিস্তারিত জানা যায়নি। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।”

জঙ্গি সংগঠন আল্লার দলের প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা কুড়িগ্রামের মতিন মেহেদী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’কে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এ সংগঠনটিসহ বাংলাদেশে বর্তমানে জঙ্গি তৎপরতা ও উগ্র ইসলামি সংগঠন হিসেবে আটটি দল নিষিদ্ধ রয়েছে।

অন্য সাতটি সংগঠনের মধ্যে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ (হুজি-বি) ও শাহাদাৎ-ই আল-হিকমাকে ২০০৫ সালে নিষিদ্ধ করা হয়।

অপর জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় ২০০৯ সালে। ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ করা হলেও আনসার আল ইসলাম নামে আবার তৎপরতা শুরু করে সংগঠনটি। পরে ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলামকেও নিষিদ্ধ করে সরকার।

আটকরা রিমান্ডে

সিলেটে আটক ৯ আল্লাহর দল সদস্যকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসি (প্রসিকিউশন) অমূল্য ভূষণ চৌধুরী।

তিনি বেনারকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আটকৃতদের সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অমূল্য ভূষণ চৌধুরী জানান, এই নয় জঙ্গি সদস্যকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন