Follow us

সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা বিষয়ে ভারতের গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2019-05-20
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকার মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বছিলা এলাকায় অভিযানের সময় জঙ্গি আস্তানা ঘিরে র‍্যাবের পাহারা। ২৯ এপ্রিল ২০১৯।
ঢাকার মোহাম্মদপুর সংলগ্ন বছিলা এলাকায় অভিযানের সময় জঙ্গি আস্তানা ঘিরে র‍্যাবের পাহারা। ২৯ এপ্রিল ২০১৯।
[মেঘ মনির/বেনারনিউজ]

জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ভারত ও বাংলাদেশে একযোগে হামলা চালাতে পারে বলে দেশটির কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাবার পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে বাংলাদেশ।

“জেএমবি হামলা করতে পারে ভারত থেকে এমন তথ্য আমরা পেয়েছি,” জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সোমবার বেনারকে বলেন, “বাংলাদেশে জঙ্গিদের যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছি। একইসাথে, সীমান্তে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাফেরার ওপর বাড়তি তদারকি করতে বর্ডার গার্ডকে বলা হয়েছে।”

এর আগে ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর বরাত দিয়ে সেদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জেএমবি পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যে এবং বাংলাদেশে হামলা চালাতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন গর্ভবতী নারী জঙ্গি হামলা চালাতে পারে।

জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে বলে বেনারকে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) এক কর্মকর্তা।

এদিকে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে জেএমবির বেশ কিছু সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বেনারকে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “আশা করি আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে হামলা চালাতে পারবে না। সেব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ঘোষিত প্রদেশের প্রধান বাংলাদেশে নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্প্রতি বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামিক স্টেট ভারত ও বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন প্রদেশ ঘোষণা করেছে।

আইএস এর নতুন এই প্রদেশটির প্রধান হিসেবে আবু মোহাম্মদ আল-বাঙালি নামে একজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে বলে বেনারকে জানান এনআইএ-এর ওই কর্মকর্তা।

বেনারের পক্ষ থেকে এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত নিয়ে নতুন প্রদেশ ঘোষণা করেছে আইএস। সেই প্রদেশের একজন প্রধান নিয়োগ করেছে তারা। আমরা এগুলো সম্পর্কে সজাগ আছি। এটুকু বলতে পারি, সেই প্রধান বাংলাদেশে নেই। দেশে থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।”

এদিকে ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই জেএমবির নেটওয়ার্ক আছে মন্তব্য করে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বেনারকে বলেন, “তবে এটি বলা দুরূহ, বাংলাদেশ ও ভারতের বাহিনীগুলোর তৎপরতার কারণে ভারতে হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা এ মুহূর্তে জেএমবির আছে কি না।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় হয় খুব দ্রুত।

জঙ্গিদের প্রবেশ ঠেকাতে কড়াকড়ি

ইরাক ও সিরিয়া থেকে বিতাড়িত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের কোনো সদস্য যাতে তথ্য গোপন করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে আসতে না পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ট্রাভেল পারমিট দেয়া বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।

কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে বলেন, “ইসলামিক স্টেটের পক্ষে যুদ্ধ করতে বাংলাদেশ থেকে কিছু নাগরিক সিরিয়া ও ইরাক গিয়েছিল। তারা বিভিন্নভাবে দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তাদেরকে দেশে ফিরে আসতে না দেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

বিভিন্ন দেশ থেকে ইসলামিক স্টেটের পক্ষে যুদ্ধ করতে যাওয়া লোকজনকে ‘অনাবাসী বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেনারকে বলেন, “ওই সকল বাংলাদেশির কাছে কোনো পাসপোর্ট নেই।”

মন্ত্রী বলেন, “দেশে এসে জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য তারা অভিনব কায়দা বের করে। তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে জানায় তাদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে। এরপর বাংলাদেশে আসার জন্য ট্রাভেল পাশ চায়।”

সৌদি আরব থেকে আসা এমন একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, তাই আমাদের সকল বিমান ও স্থলবন্দরকে ট্রাভেল পাশ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যারাই ট্রাভেল পারমিট নিয়ে দেশে আসবেন তাদের আগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কোনো রকম সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনো প্রকার ট্রাভেল পারমিট না দিতে গত ১৬ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ওই চিঠির একটি কপি বেনারনিউজের প্রতিনিধি দেখেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যুদ্ধ ফেরত জঙ্গি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায় জাতীয়তা ও প্রাক পরিচিতি যাচাই বাছাই না করে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। তাই মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়া ট্রাভেল পারমিট ইস্যু না করার জন্য মিশনগুলোকে নির্দেশ দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হলে, তবেই কাউকে ট্রাভেল পারমিট দেওয়া হবে।

সাইফুল্লাহ ওজাকি সিরিয়ার কারাগারে

বাংলাদেশ থেকে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) সদস্য সংগ্রহ ও তাদের সিরিয়ায় পাঠানোর অন্যতম হোতা সাইফুল্লাহ ওজাকির খোঁজ পাওয়া গেছে। তিনি এখন ইরাকের কুর্দিস্তানের সুলাইমানিয়ার একটি কারাগারে বন্দী। সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মাস দুয়েক আগে কুর্দিস্তান কাউন্টার টেররিজম গ্রুপের (সিটিজি) কাছে আত্মসমর্পণ করেন ওজাকি।

বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে প্রথম আলো জানায়, সিরিয়ার বাঘুজে আইএসের শেষ ঘাঁটির পতনের পর অন্তত নয়জন বাংলাদেশি জঙ্গি আটক বা আত্মসমর্পণের খবর জানা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ওজাকি ছাড়া বাকি দুজন হলেন জুনায়েদ হাসান খান ও তাহমিদ শাফি। তাঁরা মার্কিন-সমর্থিত বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) হাতে আটক হন।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কলকাতা থেকে পরিতোষ পাল।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন