Follow us

শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়া রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার

রে শেরমান ও রাদি রাজাক
কুয়ালালামপুর
2019-07-09
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
মালয়েশিয়ার সুবাঙ-এ মাহা মারিয়ামান মন্দিরের সামনে পুলিশের পাহারা। ২৭ নভেম্বর ২০১৮।
মালয়েশিয়ার সুবাঙ-এ মাহা মারিয়ামান মন্দিরের সামনে পুলিশের পাহারা। ২৭ নভেম্বর ২০১৮।
[এপি]

ফেসবুক ভিডিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিদাতা এক রোহিঙ্গাসহ চারজনকে সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার আইজিপি আব্দুল হামিদ বদর জানান, জুন মাসের ১৪ থেকে জুলাইর ৩ তারিখের ভেতর দেশটির কেদাহ ও সেলাঙর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।

“কেদাহ প্রদেশের সুঙাই পেটানি জেলায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ৪১ বছরের ওই রোহিঙ্গাকে জুনের ২৪ তারিখ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) সমর্থক, যাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদকে ভিডিও বার্তায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়,” বিবৃতিতে বলেন আব্দুল হামিদ বদর।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেবার বিষয়টিকে মালয়েশিয়ার পুলিশ হালকা ভাবে নিচ্ছে না বলে বেনারকে জানায় পুলিশের একটি সূত্র।

“আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। এই মুহূর্তে এর বেশি বলা সম্ভব নয়। পরিকল্পিতভাবে কিংবা পরিকল্পনা ছাড়া, যেভাবেই হোক এটি (হত্যার হুমকি) একটি গুরুতর বিষয়,” বেনারকে জানায় পুলিশের ওই সূত্র।

দেশটির আইন অনুযায়ী, অভিযোগ গঠন করে আদালতে হাজির করার আগ পর্যন্ত কোনো আসামির নাম প্রকাশ করে না মালয়েশিয়ার পুলিশ। এছাড়া অভিযোগ গঠনের আগে সর্বোচ্চ ২৮ দিন পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারে পুলিশ।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া ওই রোহিঙ্গার তিনটি অতীত অপরাধের তথ্য রয়েছে বলে জানান আব্দুল হামিদ।

“সর্বশেষ গ্রেপ্তারের আগে তাঁকে আরো তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রথমবার অবৈধভাবে মালয়েশিয়া প্রবেশের অভিযোগে ১৯৯৭ সালে, তারপর ভুয়া অভিবাসন নথি তৈরির অভিযোগে ২০১২ সালে এবং মানবপাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৫ সালে,” বিবৃতিতে বলেন পুলিশ প্রধান।

এই রোহিঙ্গা শ্রমিক ছাড়াও একই প্রদেশ থেকে আরেকজন ধর্ম শিক্ষক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল হামিদ।

তিনি জানান, “কেদাহ প্রদেশের বুকেত পিনাঙ এর একটি ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ২৫ বছর বয়স্ক রোহিঙ্গাকে আরসা সমর্থনের অভিযোগে জুলাইর ৩ তারিখ গ্রেপ্তার করা হয়।”

ওই দুইজনের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ রয়েছে কি না সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া স্বর্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হিসাব মতে বর্তমানে মালয়েশিয়াতে ৯০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছেন।

এর আগেও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তার করেছ মালয়েশিয়া। গত মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর হয়ে মালয়েশিয়ায় আক্রমণের পরিকল্পনার অভিযোগে দুই রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গত বছর মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীও দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

দুই রোহিঙ্গা ছাড়া গ্রেপ্তর বাকি দুজনের একজন ভারতীয় এবং একজন ফিলিপিনো।

পুলিশ প্রধান জানান, ৫৪ বছর বয়স্ক ফিলিপিনোকে ফিলিপাইনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আবু সায়াফের সাথে সম্পৃক্ততা এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ১৪ জুন গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে ২১ জুন গ্রেপ্তার হওয়া ২৪ বছর বয়স্ক ভারতীয় নাগরিক শিখদের জঙ্গি সংগঠন বাবার খালসার উচ্চ পর্যায়ের নেতা বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, আশির দশকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে বোমা বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে ৩৩১ জনকে হত্যা করে বাবার খালসা।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন