Follow us

ঢাকায় পুলিশ বক্সের কাছে বোমা রাখার দায় স্বীকার করেছে আইএস

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2019-07-25
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
খামারবাড়ি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পাওয়া বোমা গভীর রাতে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ২৪ জুলাই ২০১৯।
খামারবাড়ি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পাওয়া বোমা গভীর রাতে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ২৪ জুলাই ২০১৯।
[নিউজরুম ফটো]

ঢাকার দুটি পুলিশ চেক পোস্টের কাছে বোমা রাখার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

বৃহস্পতিবার আইএসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স এক টুইট বার্তায় এই দাবি করেছে। পুলিশ বক্সে হামলার উদ্দেশ্যে এই বোমা পেতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে রাজধানীর পল্টন ও খামারবাড়ি এলাকায় দুটি পুলিশ বক্সের কাছে পৃথক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে এর সাথে আইএস সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি পুলিশ। কারা এর সাথে সম্পৃক্ত তাও শনাক্ত হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত হলেই বলা যাবে ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, কথিত আইএস দাবি করলেও এ ধরনের ঘটনা দেশীয় জঙ্গিরা ঘটিয়ে থাকে। এই শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই।

“আইএস এর আগেও দায় স্বীকার করেছে। তবে এখানে হোমগ্রোন জঙ্গিরাই এসব করে থাকে। ওরা (আইএস) হয়তো কিছু টাকা পয়সা দেয়,” বেনারকে বলেন মেজর জেনারেল (অব:) হেলাল মোর্শেদ।

তিনি বলেন, “আবার আইএস যেখানেই যা ঘটে থাকুক তারা জড়িত থাকলেও বা না থাকলেও তার ক্রেডিট নেয়। এটা তাদের প্রবণতা।”

“তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারকে স্বচ্ছ থাকতে হবে। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকলে এসব ঘটনা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না,” বলেন হেলাল মোর্শেদ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন ও খামারবাড়ি এলাকায় দু্ই পুলিশ বক্সের কাছে পৃথক বোমা উদ্ধারের পর সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশের বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল।

তদন্ত চলছে

গত মঙ্গলবার রাতে বোমা উদ্ধারের ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে তেজগাঁও এবং পল্টন থানায় বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ।

পল্টন থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বিস্ফোরণের জন্য বোমা রেখে বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনে অপরাধ করেছে।

একইভাবে তেজগাঁও থানার মামলায় বলা হয়, জনগণের জানমাল ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর নিমিত্তে বোমা প্রস্তুত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বোমা রেখে বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনে অপরাধ করেছে।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বেনারকে বলেন, “আমাদের তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে আপাতত কিছু বলতে পারছি না।”

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আপাতত খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে এবং পল্টনের সিসি ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। তবে খামারবাড়ির সিসি ক্যামেরাটি পুলিশ বক্সের বেশ খানিকটা দূরে হওয়ায় ফুটেজ কিছুটা অস্পষ্ট।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় দুই ট্রাফিক পুলিশ এবং কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

এরপর ২৬ মে রাতে মালিবাগে এসবি (বিশেষ শাখা) অফিসের সামনে এসবির একটি পিকআপে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। আকস্মিক ওই বিস্ফোরণে আহত হন ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তার (২৮)। এছাড়া লাল মিয়া (৫০) নামে একজন রিকশাচালকও ওই ঘটনায় আহত হন।

পরে দুটি ঘটনারই দায় স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের নামে বার্তা দেওয়া হয়। তবে পুলিশ সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে। দেশের কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মনে করে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বেনারকে জানান, খামার বাড়ি ও পল্টনের বোমা এবং মালিবাগ ও গুলিস্তানে হামলায় ব্যবহার করা বোমার ধরন কিছুটা ভিন্ন। তবে এসব দেশীয় একই জঙ্গি গোষ্ঠীর কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার উদ্ধার করা বোমার আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ সূত্র।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন