মন্ত্রণালয় বন্ধ করলেও লেকহেড স্কুল খুলে দিতে আদালতের নির্দেশ

জেসমিন পাপড়ি
2017.11.14
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া লেকহেড স্কুলের ধানমন্ডি শাখার সামনে পুলিশ পাহারা। জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া লেকহেড স্কুলের ধানমন্ডি শাখার সামনে পুলিশ পাহারা। ০৭ নভেম্বর ২০১৭।
মনিরুল আলম/বেনারনিউজ

জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে ঢাকার লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত। তবে জঙ্গি কার্যক্রমের অভিযোগ তদন্তে সরকারকে সহায়তা করতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্কুলটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেওয়াসহ কয়েকটি অভিযোগ এনে গত ৬ নভেম্বর থেকে ঢাকার গুলশান ও ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যমের লেকহেড গ্রামার স্কুলটির দুটি শাখা বন্ধ করে দেয় সরকার।

জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে এ বছর ৬ ফেব্রুয়ারি স্কুলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত শেষে গত সপ্তায় স্কুলটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ স্কুল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়ে ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান ও ধানমন্ডিতে অবস্থিত স্কুলটির দুটি শাখার প্রায় হাজার দেড়েক শিক্ষার্থী।

স্কুলটির পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।

আবেদনকারী পক্ষের অন্যতম আইনজীবী রাশনা ইমাম এ বিষয়ে বেনারকে বলেন, “উচ্চ আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দিতে বলেছেন। পাশাপাশি স্কুলটির জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা বিষয়ে সরকার যদি কোনো তদন্ত করতে চায়, তাহলে সে কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী (অ্যাটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম বেনারকে বলেন, “আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে যাব। কারণ স্কুলটি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বন্ধ করা হয়েছিল। বুধবারই আবেদন জমা দেওয়া হতে পারে।”

এর আগে স্কুলটি বন্ধ করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপেরে বিরুদ্ধে হাই কোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন এবং ১২ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এ দুটি রিটের শুনানি শেষে গত ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রুলের জবাব দিতে বলা হয় শিক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার রুলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার স্কুলটি খুলে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

স্কুল কর্তৃপক্ষের জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্টতা

২০০০ সালে ধানমন্ডি ৬/এ সড়কের একটি বাড়িতে শুরু হওয়া লেকহেড গ্রামার স্কুলটির প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন হিযবুত তাহরীরের সদস্য জেনিফার আহমেদ। ২০০৯ সালে হিযবুত তাহরীর নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি লন্ডন চলে যান।

গত বছর সেপ্টেম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত জঙ্গিগোষ্ঠী নব্য জেএমবির সামরিক প্রশিক্ষক সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জাহিদুল ইসলাম ছিলেন এই স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, এ স্কুলের সাবেক শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে ৩০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজীব করিম।

রাজীব করিমের ভাই তেহজিব করিম, তেহজিবের স্ত্রী সিরাত করিম এবং তাঁদের সহযোগী মাইনুদ্দিন শরীফ ও মাইনুদ্দিনের ভাই রেজওয়ান শরীফও ছিলেন এই স্কুলের শিক্ষক।

তেহজিব করিম ২০১০ সালে ইয়মেনে আল-কায়েদা বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে সেখানে আট মাস কারাভোগ করেন।

মাইনুদ্দিন শরীফ ২০১৪ সালে আইএসএ যোগ দেয়ার জন্য পরিবারসহ সিরিয়ায় পাড়ি জমান বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথম অধ্যক্ষ জেনিফার দেশ ছাড়ার পর স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন হারুন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের মালিক হারুন অর রশিদ ও তাঁর ছেলে রেজওয়ান হারুন। রেজওয়ান হারুন গত ১২মে লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।