Follow us

ঐক্যফ্রন্টের সাথে ঐক্যে বাধা নেই ২০-দলীয় জোটের

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-10-15
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকায় গণমাধ্যমের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর কর্মসূচি তুলে ধরছেন এর নেতা ড. কামাল হোসেন। ১৩ অক্টোবর ২০১৮।
ঢাকায় গণমাধ্যমের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর কর্মসূচি তুলে ধরছেন এর নেতা ড. কামাল হোসেন। ১৩ অক্টোবর ২০১৮।
বেনারনিউজ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। তবে ফ্রন্টে যোগদানের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এই জোট।

বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ২০-দলীয় জোটের এক বৈঠকের পর এ তথ্য জানিয়ে নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন আদায় করতে তাঁরা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বেনারকে বলেন, “২০-দলীয় জোটের অধিকাংশ নেতাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিলেও সভায় আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ২০-দলীয় জোটের ঐক্য হতে জামায়াত এখন আর কোনো বাধা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০-দলীয় জোটের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদ বেনারকে বলেন, “বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে আছে। আবার জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টও ২০-দলীয় জোটের সাথে আছে। সুতরাং, নতুন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যোগ দেয়ার কিছু নাই।”

“জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সময় ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন জামায়াত থাকলে তিনি তাদের সাথে ঐক্য করবেন না। উনি তো নেই। সুতরাং, এখন এ রকম কোনো বাধাও নেই,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ২০-দলীয় জোটের ঐক্য হতে পারে। এখানে যে কেউ যোগ দিতে পারে। তবে, এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।”

খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের আগে পরে সেনা মোতায়েনসহ সাত দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শনিবার ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যোগ বিএনপি।

সেই ফ্রন্টে জামায়াতের বিরোধিতাকারী সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্প ধারাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এর প্রধান আন্দালিব রহমান পার্থ বেনারকে জানান, নির্বাচনের আগে ২০-দলীয় জোট কীভাবে তাদের লক্ষে এগিয়ে যাবে তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে স্বাগত জানাই। কারণ, আমাদের মধ্যে আদর্শিক মিল রয়েছে।” ২০-দলীয় জোট নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চাওয়াও একই।

“তবে ২০-দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবে কি না সেব্যাপারে আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে,” যোগ করেন পার্থ।

জোট ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং

বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কামাল হোসেন মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। কিন্তু বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারাকে বাদ দিয়ে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (রব) নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলেন ড. কামাল হোসেন।

এক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের সাথে যোগ দেয়ার পর কোনো দল ছুটে গেলে তা লজ্জাজনক হবে বলে মন্তব্য করেন পার্থ। তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যফ্রন্টের সাথে জোট করতে পারি। কিন্তু জোট ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।”

অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর রোববার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে বলেন, “তিনি দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের সাথে ঐক্য করেছেন।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার ঐক্যফ্রন্টকে ‘ভুয়া’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, “এই ঐক্যের কোনো প্রভাব আগামী ভোটে পড়বে না।”

এমন সমালোচনার কারণ ব্যাখ্যা করতে ক্ষমতাসীন এই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান বেনারকে বলেন, “অতীতে ২১ আগস্ট হামলা ও জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের জন্য বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ড. কামাল। এখন তিনি দুর্নীতিবাজ খালেদা জিয়া ও সন্ত্রাসী তারেক রহমানের সাথে ঐক্য করেছেন।”

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

রাজনীতিক বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান বেনারকে বলেন, “২০-দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে যোগ দিলে এই জোটের ব্যাপারে মানুষের আকাঙ্খা বাড়বে। আর মানুষের আকাঙ্খা বাড়লে সেটা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।”

“তবে দেখার বিষয় সরকার বিএনপি-জামাত জোটের ওপর যেমন কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নিয়েছে তেমন কোনো ব্যবস্থা ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে নেয় কিনা। যদি না নেয় তাহলে এই জোট শক্তিশালী হওয়ার সমূহ সম্ভবনা আছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আরো বলেন, “বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন করবে না। কিন্তু তারা হয়ত এখন ড. কামাল হোসেনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে খালেদা জিয়া ছাড়াই নির্বাচনে যাবে।”

“এক্ষেত্রে ড. কামাল যদি নির্বাচনে জয়ী হন, আর উনি যদি বিরোধীদলীয় নেতাও হন তাহলে আমাদের সংসদ প্রাণবন্ত হবে,” যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ বেনারকে বলেন, “ড. কামালের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে বিএনপির অথবা ২০-দলীয় জোটের যোগ দেওয়া আসলে ‘সুবিধাবাদের রাজনীতি’।

“বিএনপি ড. কামালের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ব্যবহার করছে। আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে ব্যবহার করছে,” বলেন তিনি।

তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট গঠন করে বিএনপি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেখাতে চায় যে তারা সকল বিরোধীদলকে নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সবাই একদিকে আর আওয়ামী লীগ আরেক দিকে।

ড. নিজাম আরো বলেন, “বিএনপি যেসকল দল নিয়ে ২০-দলীয় জোট করেছে সেই সকল দলের নেতারা রাজনীতি থেকে প্রায় বিতাড়িত। তাঁরা বিএনপির সাথে জোট করে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে চাইছেন।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন