নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ভিন্নমত সরকার ও বিরোধী দলের

কামরান রেজা চৌধুরী
2017.10.18
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। ১৮ অক্টোবর ২০১৭।
নিউজরুম ফটো

তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিন মাস পর লন্ডন থেকে বুধবার দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সাথে চলমান রাজনৈতিক সংলাপে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তা দল (বিএনপি) বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তাঁর দল আগামী নির্বাচনে প্রয়োজন হলে বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে।

অন্যদিকে গত রোববার নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনায় বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানায়।

“নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সেনা মোতায়েন ছাড়া দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনার সময় এই প্রস্তাব দিয়েছি,” বেনারকে বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর অংশের মানুষ বিশ্বাস করে যে সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং ইসি নির্ধারিত ভোটের পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে।”

“নির্বাচনে সকল ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা বিপজ্জনক,” বেনারকে বলেন সংলাপে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউসার।

“দেখুন একজন পুলিশ বা বিজিবি সদস্য ভোট কেন্দ্রে সমস্যা হলে লাঠি চার্জ করতে পারে বা ধাক্কা দিতে পারে। কিন্তু একজন সেনা-সদস্য তা করবে না। সে গুলি করবে; মানুষ মরবে-সেটা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে,” তিনি বলেন।

“তবে আজ আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, নির্বাচনের সময় তাদের হাতে সকল ক্ষমতা থাকবে। প্রয়োজন হলে তারা সেনা মোতোয়েন করতে পারবে; কিন্তু তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়া যাবে না,” যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, “বিএনপি মনে করছে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা খুবই কম। তাই তারা ভোটে কারচুপি করবে। তাদের মতে, যেহেতু সেনা সদস্যরা নিরপেক্ষ থাকে, সেহেতু তাদের মোতায়েন করলে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে।”

“আবার আওয়ামী লীগ চাইবে সেনা মোতায়েন হলেও যেন সিভিলিয়ান প্রশাসনের আওতায় থাকে,” বলেন ড. আতাউর রহমান।

এদিকে নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার নিয়েও এই বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারসহ মোট ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে বিএনপি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে।

প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানের জন্য কী কী করা প্রয়োজন তা জানতে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করে। এর অংশ হিসেবে গত রোববার বিএনপি ও বুধবার আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনায় বসে নুরুল হুদার নেতৃত্বের নির্বাচন কমিশন।

এবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়ার পর বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করছে।

“আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরো দুটি দলের সঙ্গেও সফলভাবে সংলাপ শেষ করব,” আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের বলেন নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

খালেদা জিয়া দেশে ফিরেছেন

তিন মাস পর বুধবার বিকেলে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আমিরাত এয়ারলাইনের একটি বিমানে তিনি ঢাকা পৌঁছান। হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে তাকে স্বাগত জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত জুলাইর ১৫ তারিখে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দ্যেশে ঢাকা ছাড়েন। সেখানে তার পুত্র ও দলের ভবিষ্যত নেতা তারেক রহমানের সাথে সময় কাটান।

লন্ডন থাকাবস্থায় গত সপ্তাহে কুমিল্লার একটি আদালত অগ্নিসংযোগের মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি আরো দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসায় চলে আসেন বলে তার দলের নেতারা জানিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করেনি।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।