Follow us

ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি ব্যবহারে তরুণদের সতর্ক করলেন পোপ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2017-12-04
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
তিন দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করার আগে বিমানবন্দরে পোপ ফ্রান্সিসকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। ০২ ডিসেম্বর ২০১৭।
তিন দিনের সফর শেষে ঢাকা ত্যাগ করার আগে বিমানবন্দরে পোপ ফ্রান্সিসকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। ০২ ডিসেম্বর ২০১৭।
ফোকাস বাংলা

যুব সমাজের মধ্যে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতির যথেচ্ছ ব্যবহার সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষদিন শনিবার নটর ডেম কলেজে তরুণদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পোপ বলেন, “তোমাদের সংস্কৃতি বড়দের শ্রদ্ধা করতে শেখায়। তাদের রয়েছে স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা, যার মাধ্যমে তোমরা অতীতে ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা পেতে পারো।”

পোপ বলেন, “তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদি ও নানা-নানির কথা শুনবে। তোমাদের চারপাশে যা হচ্ছে তা থেকে দূরে থেকে সারা দিন শুধু ফোন নিয়ে মাতামাতি করবে না।”

পোপের এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল শ্রেণির মানুষ।

নটর ডেম কলেজের সাবেক ছাত্র ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর ছাত্র ঐশিক জাওয়াদ বেনারকে বলেন, “পোপ মহোদয় মোবাইল ফোন নিয়ে যে সতর্কবাণী দিয়ে গেছেন সেটি খুবই সময়োচিত বিষয়। কারণ, বর্তমানে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা সারা দিন মোবাইল ফোন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আসক্ত হয়ে থাকছে। তাদের অধিকাংশই ইউটিউবে বাজে কনটেন্ট দেখছে।”

এই তরুণের মতে, “সোশ্যাল মিডিয়া প্রয়োজনীয় তবে ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়া ঠিক নয়।”

“মোবাইল ফোন হাতে থাকলে সোশ্যাল মিডিয়াতে যোগাযোগ খুব সহজ হয়ে যায় এবং তা আসক্তির দিকে যায়। কিন্তু কম্পিউটার দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে আসক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে,” বলেন তিনি।

“আমি মনে করি পোপ মহোদয়ের বক্তব্য কিছুটা হলেও যুবকদের এ ব্যাপারে চিন্তা করতে শেখাবে,” বলেন জাওয়াদ।

পোপের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া যুবক আল-আমিন বলেন, “উনি বলার পর আমি অনুধাবন করলাম আসলে মোবাইল ফোনে আসক্তি সারা দুনিয়াতেই। আমি তাঁর কথা পালন করার চেষ্টা করবো।”

“আর উনি তো বড়দের মান্য করতে বলছেন; এটাতো খারাপ কিছু না”, বলেন আমিন।

বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও বেনারকে বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে যেমন সম্মান পেয়েছেন তা সত্যিই গর্ব করার মতো। সকল ধর্মের, বর্ণের মানুষ তাঁর কথা গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য কিছুটা হলেও সমাজে প্রভাব ফেলবে।”

'রোহিঙ্গা' শব্দ ব্যবহার না করার ব্যাখ্যা

গত নভেম্বর ৩০ তারিখে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

মিয়ানমার সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকেন পোপ। এই অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সমালোচনা শুরু হয়।

তবে বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন ঢাকার আর্চ বিশপ হাউসে আন্তঃধর্মীয় সভায় পোপ রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পোপ তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনেন এবং বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে ঈশ্বর বিদ্যমান।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

“আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বার্তাটি দেওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বলা এবং উত্তর শোনা,” পোপ বলেন।

“আমি জানতাম যে, আমি যদি আমার অফিশিয়াল বক্তৃতায় ওই শব্দটি ব্যবহার করতাম তাহলে তারা আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিতো। কিন্তু আমি জনসম্মুখে তাঁদের অবস্থা বর্ণনা করেছি এবং বলেছি যে কারো নাগরিকত্ব বাদ দেয়া উচিত নয়। আর এভাবে আমি আমার ব্যক্তিগত বৈঠকে বেশি করে বলেছি,” বলেন পোপ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে বলেন, “পোপ মিয়ানমার সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার না করায় আমরা খুব হতাশ ছিলাম। কিন্তু ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করায় আমরা খুশি। কারণ, পোপের বক্তব্য সত্যিই ম্যাটার করে।”

“তিনি যখন ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার করেন তখন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে,” তিনি বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হ‌ুমায়ূন কবির বেনারকে বলেন, “পোপ ১২০ কোটি মানুষের ধর্মীয় নেতা। পশ্চিমা জগতে তার কথার গুরুত্ব অনেক। সুতরাং, তাঁর মুখে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায় কিছু ভূমিকা রাখতে পারে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন