Follow us

রোহিঙ্গারা কেমন আছেন, জানতে চাইলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

জেসমিন পাপড়ি ও আবদুর রহমান
ঢাকা ও কক্সবাজার
2019-02-04
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
জাতিসংঘের দূত হয়ে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিন কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
জাতিসংঘের দূত হয়ে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিন কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।
[আবদুর রহমান/বেনারনিউজ]

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সফরের প্রথম দিন সোমবার তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ চাকমারকুল শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের কাহিনি শোনেন।

ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের চাকমারকুল ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বেনারকে বলেন, “সোমবার দুপুর একটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ হয়ে চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।”

তিনি জানান, চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে তিন ঘণ্টা সময় কাটান জোলি। সেখানকার বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পালিয়ে আসার কারণ ও নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন।”

এর আগে সকাল ১০টার দিকে একটি বেসরকারি বিমানে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে কক্সবাজারের ইনানীতে হোটেলে বিশ্রাম নেন তিনি। সেখানেই তাঁর রাত যাপনের কথা রয়েছে।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যখন বাংলাদেশে আসছেন, তখন রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নতুন করে সহায়তার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এ মাসের কোনো এক সময় জেনেভায় ৯২০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানোর কথা জাতিসংঘের। এক বছরের জন্য ওই অর্থ রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খরচ হওয়ার কথা।

ইউএনএইচসিআর সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে জোলির। সেখানে ‘ইউএনসিআর’ ব্র্যাক, রিলিফ ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা করবেন তিনি।

এছাড়াও ক্যাম্পে অবস্থানরত বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। পরবর্তীতে ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

রোহিঙ্গারা কেমন আছে জানতে চাইলেন

ক্যাম্প পরিদর্শনকালে প্রথম হারেছা নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে কথা বলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

পরে হারেছা বেনারকে জানায়, সে কেমন আছে, কীসে পড়ে, কেন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে এসব জানতে চান জোলি।

জবাবে হারেছা জানায়, সে এখন ভালো আছে। আরো লেখা-পড়া শিখতে চায়। মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচারে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সেদেশে তাদের ওপর অনেক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সকল নির্যাতনের বিচার চায়।

চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোহাম্মদ জাবের বেনারকে বলেন, “জাহানারা বেগম নামে এক রোহিঙ্গা নারীর ঘরে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তারা এখানে কেমন আছেন জানতে চান। জবাবে জাহানারা জানান, এখানে বেশ ভালো আছেন। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিচার চান। এবং রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশে ফিরতেও চান।”

তবে আবদুল শুক্কুর নামে এক রোহিঙ্গা জানান, “অনেক বড় বড় সেলিব্রিটি লোক আসে-যায়। কিন্তু আমাদের কী উপকার হয়? তারা শুধু আসে, ঘুরে চলে যায়। কিন্তু আমাদের বিচার কি পেয়েছি? আমরা কি নিজ দেশে রোহিঙ্গা স্বীকৃতি নিয়ে ফিরতে পেরেছি?”

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে প্রাণভয়ে কক্সবাজারে পালিয়ে আসতে শুরু করে।

সোমবার ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে এক মেইল বার্তায় জানানো হয়, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ২০১২ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত হন। এর পর থেকে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

জোলির এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। তিনি ২০১৫ সালে মিয়ানমারে ও ২০০৬ সালে ভারতে রোহিঙ্গাদের দেখতে যান।

এর আগে গত বছরের ২১মে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বাংলাদেশে আসেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন