ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে ১১৪ রোহিঙ্গা উদ্ধার

উজাইর থামরিন
2022.03.07
বান্দা আচেহ, ইন্দোনেশিয়া
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে ১১৪ রোহিঙ্গা উদ্ধার নৌকায় করে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বিরুয়েনে পৌঁছার পর একটি মসজিদ প্রাঙ্গণে বিশ্রাম নিচ্ছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ৬ মার্চ ২০২২।
[এএফপি]

সাগরে ২৫ দিন ধরে একটি কাঠের নৌকায় ভেসে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে পৌঁছানো ১১৪ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর আসার পেছনে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা তদন্ত শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া।

দেশটির পুলিশ ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার আচেহের বিরুয়েন উপকূলে গ্রামবাসীরা ৫৮ জন পুরুষ, ২১ জন মহিলা এবং ৩৫ জন শিশুকে একটি কাঠের নৌকা থেকে নামতে দেখে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক সেবাযত্ন করেন।

আচেহ পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র কমিশনার উইনার্ডি বলেছেন, “আমরা সম্ভাব্য মানব পাচারের বিষয়ে তদন্ত করছি এবং এখনও সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।”

“প্রাদেশিক পুলিশ বিভাগের সাধারণ অপরাধ বিভাগের একটি দলকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

গত ২৭ ডিসেম্বরের ৫১ শিশুসহ ১২০ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধারের পর এটি ইন্দোনেশিয়ায় আসা দ্বিতীয় দল।

স্থানীয় সমাজ নেতা মুসলিম এ মজিদ জানান, “রোহিঙ্গারা যে মসজিদে আছে সেখানে স্থানীয়রা একটি রান্নাঘর বানিয়ে দিয়েছে এবং বিরুয়েন প্রশাসন তাঁদের জন্য খাবার সরবরাহ করেছে। স্থানীয়রা ভোরে সমুদ্র সৈকতে কাঁকড়া খুঁজতে গেলে রোহিঙ্গাদের দেখতে পায়। আমরা যখন দেখেছি, তখন তারা নৌকা থেকে নেমে সৈকতের নিরিবিলি স্থানে বসে ছিল,” বেনারকে বলেন তিনি।

পুলিশের মুখপাত্র উইনার্ডি বলেন, রোহিঙ্গারা সামান্য খাবার নিয়ে সমুদ্রে ২৫ দিন কাটিয়েছে।

“তাঁদের মধ্যে ৭৪ জনের কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্ড এবং ৩০ জনের কাছে কোভিড ভ্যাকসিন কার্ড ছিল,” বলেন তিনি।

ইউএনএইচসিআরের একজন মুখপাত্র মিত্রা সুর্যোনো বলেছেন, এই রোহিঙ্গারা কোথা থেকে রওনা করে কোথায় যাচ্ছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

“এই মুহূর্তে আমরা আসলে তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবছি। তাঁদের কোভিড পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কিছুকাল তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

“আগে যারা এসেছিল তাদের মতো এই দলেও কিছু মানুষ আছে যারা বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর কার্ড পেয়েছে, কারণ তারা আগে সেখানে ছিল এবং সেখানে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল,” বলেন তিনি।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়নে বাস্তুহারা হওয়ার পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার এবং তার আশেপাশের শিবিরে আশ্রয় নেন।

এদের মধ্যে অনেকেই দালালদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে সাগরপথে থাইল্যান্ড বা এবং মালয়েশিয়ায় যাবার চেষ্টা করেন।

বিরুয়েন রিজেন্সির প্রধান মুজাক্কর এ গণি বলেন, আশা করছি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং ইউএনএইচসিআর-এর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের উত্তর আচেহ রিজেন্সির লোকসুমাওয়ে শহরে স্থানান্তর করা হবে।

মুজাকার সাংবাদিকদের বলেন, “বিরুয়েননের এই অস্থায়ী আশ্রয় যথেষ্ট নিরাপদ নয়। তাছাড়া শরণার্থীরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”

তিনি জানান, এর আগে ডিসেম্বরে যে ১২০ জন রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মধ্যে “৩৬ জন লোকসুমাওয়ের শিবির থেকে পালিয়েছে। একটি পাচারকারী চক্র তাদেরকে ইন্দোনেশিয়ার বাইরে নিয়ে গেছে বলে শঙ্কা হচ্ছে।”

“আমার কাছে এখনও প্রমাণ নেই, তবে এটি পদ্ধতিগত বলে মনে হচ্ছে। তাই দৃঢ় সন্দেহ যে এর মধ্যে অন্যান্য পক্ষ জড়িত রয়েছে,” মুজাকার বলেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা ঠিক কোথায় গেছেন তা তাঁরা জানেন না, তবে সন্দেহ করছেন তাঁদেরকে তাদের মূল গন্তব্য মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, অক্টোবর পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৬৫ রোহিঙ্গা মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়াসহ তৃতীয় দেশে যাওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়ায় আটকা পড়েছেন। 

ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ শরণার্থী বিধি বা শরণার্থীদের অবস্থা সম্পর্কিত ১৯৬৭ প্রোটোকলের অংশীদার নয়। তাই সেখানে শরণার্থীদের চাকরি পেতে এবং স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।