মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার

বিশেষ প্রতিবেদন
2022.08.31
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
মিয়ানমারের উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার ২৯ আগস্ট গায়তগি দ্বীপের কাছে ভেসে আসা নৌকায় রোহিঙ্গাদের ছবি।
[সূত্র: নাগরিক সাংবাদিক]

মিয়ানমারের আয়ারওয়াদি গায়তগি দ্বীপের কাছে ভাসমান একটি নৌকায় জীবিত ৫৯ জন রোহিঙ্গার সাথে ছয়টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বেনারনিউজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেডিও ফ্রি এশিয়াকে (আরএফএ) জানিয়েছেন, উপকূলের নিকটবর্তী গায়তগি দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বেশ কয়েকদিন ধরে জাহাজটি ভেসে থাকার খবর পেয়ে সোমবার মিয়ানমার কোস্টগার্ড নৌকাটিকে থামাতে গিয়েছিল।

নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করতে নিকটবর্তী কা ডন থেকে মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে পাঠানো হয়েছিল।

নৌকায় মৃতদেহ ছিল। দেখে মনে হয়েছে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। এটি দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে ভাসছিল। মানুষগুলো অনাহারে মারা গেছে,” বলেন তিনি।

স্থানীয় অধিবাসীরা বলেছেন, ৩ জন পুরুষ এবং ৩ জন নারী মারা গেছেন। বেঁচে আছেন ৫৯ জন। জীবিতদের বোগাল অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে একটি শিশু মারা গেছে। তবে আরএফএ স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

বোগালে এলাকাটি মিয়ানমারের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমারের সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী এবং আয়ারওয়াদি আঞ্চলিক সামরিক পরিষদের মুখপাত্র মং থানকে আরএফএর পক্ষ থেকে বুধবার অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নৌকাটি কোথা থেকে রওনা দিয়েছিল এবং জীবিত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতীতে এসব ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা অভিবাসীরা মিয়ানমারের অভিবাসন আইনে তিন থেকে ছয় মাস কারাবাসের শিকার হয়েছেন।

গত ২১ জুন একটি নৌকা আয়রাওয়াদি অঞ্চলের কায়াইক্লাত শহরের একটি গ্রামের কাছে ভিড়লে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ২৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল।

রাখাইন রাজ্যের উত্তর প্রান্তে বুথিডং ও মংডু এলাকায় দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের বসবাস ছিল। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযান থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যান। সেখানে তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে কষ্টকরভাবে বসবাস করছেন।

যারা পালাতে পারেননি তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ শত শত রোহিঙ্গা নিহত হন এবং বহু গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাম্বিয়ার দায়েরকৃত একটি মামলায় গণহত্যার জন্য সামরিক বাহিনীর অপরাধ তদন্ত করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের পদক্ষেপকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে।

সেই দমন-পীড়নের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেও, রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা রয়ে গেছেন। সেখানে তাদের চলাফেরার অধিকার আরও বেশি নিয়ন্ত্রিত।

রাখাইনের একজন মানবাধিকার কর্মী জারনি সোয়ে গত সপ্তাহে আরএফএকে বলেছিলেন রাজ্যের উত্তরে আরাকান আর্মি এবং জান্তা সৈন্যদের মধ্যে নতুন করে লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে তাঁদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছ আরএফএ বার্মিজ সার্ভিস

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।