Follow us

সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী ১৪ রোহিঙ্গা উদ্ধার

জেসমিন পাপড়ি ও আবদুর রহমান
ঢাকা ও কক্সবাজার
2018-11-06
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে পাঁচ জন নারী। ৬ নভেম্বর ২০১৮।
সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে পাঁচ জন নারী। ৬ নভেম্বর ২০১৮।
[সৌজন্যে: বিজিবি]

নতুন করে আবারও কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল দিয়ে সাগরপথে মানব পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে দালালরা। মঙ্গলবার ভোরে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ সাগরের তীর থেকে মালয়েশিয়াগামী ১৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমদ্দার বেনারকে বলেন, “দালালের খপ্পরে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল এমন ১৪ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ জন নারী।”

“তারা সবাই ভিকটিম, ফলে তাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে দালাল আইয়ুব আলীর নাম পেয়েছি। যে নিজেও একজন রোহিঙ্গা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বেনারকে বলেন, “নির্যাতনের শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু এপারে আসার পরে তারা সবাই বেকার জীবন কাটাচ্ছে। তা ছাড়া চলতি মাসে ১৫ নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা সেদেশে যেতে প্রস্তুত নয়।”

“এ ছাড়া অনেক রোহিঙ্গার আত্মীয়স্বজন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে রয়েছে, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে রোহিঙ্গাদের অনেকেই সাগরপথ বেছে নিয়েছেন। আবার অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে এসব কাজে জড়িয়ে পড়ছেন,” বলেন তিনি।

কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা জানান, গত কয়েক মাস ধরে টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক নারী ও পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কি সাগর পথে পাচার হয়েছেন নাকি অন্য কোথাও গেছেন তার হিসাব নেই।

ঠিক কতজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন তা জানাতে পারেননি তাঁরা।

বিজিবি জানায়, মানবপাচারকারী একটি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে টাকার বিনিময়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিল উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা। টেকনাফের কচুবনিয়া ঘাট থেকে তাদের নৌকায় তোলে পাচারকারীরা। এরপর গত দুই দিন ধরে সাগরে এদিক-ওদিক ঘোরায়।

পাচারকারীরা বলেছিল, গভীর সাগরে একটি বড় জাহাজে রোহিঙ্গাদের তুলে দেওয়া হবে। এর জন্য দালাল চক্রের সদস্য আইয়ুব আলী (৪০) নামে এক রোহিঙ্গাকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গারা। দুই দিন সাগরে ঘোরানোর পর মঙ্গলবার ভোরে তাঁদের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচল নামে উপকূলে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিজিবি’র একটি দল তাঁদের উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃতরা হলেন-উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরের মোহাম্মদ ইয়াছিন (২২), বালুখালী ক্যাম্পের মো. ইসলাম (২৬), থ্যাংখালী ক্যাম্পের খাইরুল আমিন (১৮), মোহাম্মদ রহিম উল্লাহ (১৬), জাকের আহমদ (১৯), আনোয়ারা বেগম (১৮) ও নুর বাহার (১৮), কতুপালং ক্যাম্পের সাইদুল আমিন (১৯) তাঁর ভাই মোহাম্মদ সুলতান (৪৫), ফরিদুল আলম (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের বিবি খতিজা (১৮), মধুরছড়া ক্যাম্পের খুরশিদা (১৮) ও রফিজা (১৮) ও টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ হোসেন (১৭)।
গত মাসে মানব পাচারের অভিযোগে প্রায় ১০ জনের মতো দালাল আটক করা হয়েছে বলে জানান উখিয়া থানার (ওসি-তদন্ত) নুরুল ইসলাম।

মানব পাচার ঠেকাতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বেনারকে বলেন, “উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশাল ক্যাম্প, এখানে কে কোথায় যাচ্ছে হিসাব রাখা খুবই মুশকিল। তবুও পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারি বাড়িয়েছে।”

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বেনারকে বলেন, “কোনোভাবেই সাগরপথে মানব পাচার হতে দেওয়া হবে না। দালালদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টেকনাফ পৌরসভা প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বেনারকে বলেন, “উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের অবস্থান। যারা অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানব পাচারের চক্ররা আবারও সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

“রোহিঙ্গারা বেকার জীবন কাটায়, কাজের সন্ধানে অথবা প্রতারণার শিকার হয়ে দালালের মাধ্যমে তাঁরা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে সাগরে নেমে বিপদে পড়ছেন,” বলেন তিনি।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন