Follow us

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে আইসিসির অনুমতি

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2019-11-14
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে অভিযানের সময় দশ জন রোহিঙ্গাকে পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটুমুড়ে বসিয়ে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে অভিযানের সময় দশ জন রোহিঙ্গাকে পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটুমুড়ে বসিয়ে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭।
[রয়টার্স]

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন অভিযানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না তা তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডের হেগে আইসিসির এক রায়ে ওই অনুমতি দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারকরা এই অনুমোদন দিয়েছেন বলে আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কোর্ট অফ জাস্টিসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলা এবং আর্জেন্টিনাতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচিসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ইউনির্ভাসাল জুরিসডিকশনের অধীনে মামলার এক সপ্তাহের মাথায় আইসিসির এই সিদ্ধান্ত এলো।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তে এটাই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের উদ্যোগ। এর ফলে এখন বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের নিকট থেকে প্রকৃত তথ্য জানা ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করবে আইসিসির প্রসিকিউটর কার্যালয়।

এদিকে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারে সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বেনারকে বলেন, “বাংলাদেশ আইসিসি সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। সে হিসেবে আইসিসির প্রসিকিউশন আমাদের কাছে যা যা সহায়তা চাইবে আমরা তা দিতে বাধ্য এবং আমরা তা দেবো।”

তিনি বলেন, “নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আইসিসি এ বিষয়টি আমলে নিয়েছে। আমরা নির্যাতিত মানুষদের আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে আইসিসি আমাদের কাছে যখন যা চাইবে তা দিয়ে সহযোগিতা করব।”

বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, “এটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে যে, ব্যাপকভাবে এবং অথবা সিস্টেমেটিক সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। যা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ির পেছনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।”

তাই চেম্বার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পরিস্থিতি তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনায় সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানকার গ্রামে গ্রামে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

অভিযানের নামে তাদের দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে কয়েক মাসের মধ্যে রাখাইন থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করে। বর্তমানে সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের ৩৪টি শিবিরে নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, তাঁদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওসহ নানা নিপীড়ন চালায় মিয়ানমার সেনারা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে বলে গত বছর সেপ্টেম্বরে সিদ্ধান্ত আসে। এরপর প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়।

রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর সময় গণহত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধসহ ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের জন্য গত বছরের জুলাইয়ে অনুমতি চান আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা।

গত বছরের ৪ জুলাই প্রাক বিচারিক আদালতের কাছে এই অনুমতি চাওয়ার সময় ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে এসব ঘটনা তদন্তের জন্য বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইসিসির নথিপত্র অনুসারে, নির্যাতিত ব্যক্তিরা সর্বসম্মতিক্রমে তদন্ত দাবি করেন এবং একমাত্র বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই এই ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ হবে বলে অনেকে মতামত দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, “এরপর নির্যাতনের মাত্রার ভয়াবহতা এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ এমন নির্যাতনের শিকার হওয়ায় বিষয়টি আইসিসি বিবেচনায় নেয় এবং এটি বিচারযোগ্য বিষয় বলে মনে করে।”

বিজ্ঞপ্তিতে মিয়ানমারের নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে উল্লেখ করে বলা হয়, এ অপরাধের তদন্ত না হওয়ার মতো কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে মনে করে আইসিসি।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন