Follow us

মালয়েশিয়া পাচারকালে ১০ রোহিঙ্গা উদ্ধার, দালাল আটক

জেসমিন পাপড়ি ও আবদুর রহমান
ঢাকা ও কক্সবাজার
2018-11-30
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া ছয় রোহিঙ্গা নারী। ৩০ নভেম্বর ২০১৮।
সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে উদ্ধার হওয়া ছয় রোহিঙ্গা নারী। ৩০ নভেম্বর ২০১৮।
[সৌজন্যে: র‍্যাব]

সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে আবারও ছয় নারীসহ ১০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র‍্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে বেনারকে জানান কক্সবাজার র‍্যাব-৭ এর ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান।

তিনি জানান, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রহমানের বাড়িতে রোহিঙ্গাদের জড়ো করে রাখা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ছয় নারীসহ ১০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনার সাথে জড়িত দালাল আবদুর রহমানকেও আটক করা হয়। তার বাড়ি সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়া, বাবা ফজরুল হক।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের ছয়জন নারী। তাঁদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছিল বলে জানায় র‍্যাব।

র‍্যব জানায়, এই নিয়ে গত এক মাসে সমুদ্রপথে পাচারের সময় ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগাই নারী। এছাড়া পাঁচ জন দালাল গ্রেপ্তার হয়েছে​।

মূলতঃ শীতকালে সাগর শান্ত থাকায় সাগরপথে মানবপাচার বেড়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পাচার কমে আসে।

তবে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বলছেন, সম্প্রতি দুদেশের সরকারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তের পর থেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। দালালরাও সেই সুযোগ নিচ্ছে।

উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোহাম্মদ রফিক বেনারকে বলেন, “নতুন করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মানবপাচারকারীর একটি চক্র সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কিছু স্থানীয় দালালের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা নেতাদের কেউ কেউ কর্মহীন রোহিঙ্গাদের প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যেতে উৎসাহিত করছে। তা ছাড়া তাঁদের জোর করে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হবে, এমন ভয় দেখিয়ে সুযোগ নিচ্ছে দালালরা।”

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বেনারকে বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দালাল সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে—এমন ধারণা পাওয়া যায়। তবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সীমান্তে মানব পাচার বন্ধে তৎপর রয়েছে।”

উদ্ধার রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে মেজর মেহেদী বেনারকে বলেন, “প্রলোভন দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে একদিন আগে তাঁদের সেখানে নিয়ে আসে দালালরা। শুক্রবার রাতে গভীর সাগরে একটি বড় ট্রলারে তাঁদের তুলে দেওয়ার কথা ছিল।”

“মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর মাথাপিছু দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গা নারীদের সেখানে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল,” বলেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া মালয়েশিগামীরা হলেন; মোহাম্মদ জিয়া, রশিদ উল্লাহ, নুর আলম, মোহাম্মদ জাবের, মোকাদেছা, জান্নাত আরা, সেতারা বেগম, জোলেখা খাতুন, রোজিনা বেগম ও সলিকা বানু।

এরা সবাই উখিয়ার কতুপালং, জাদিমুরা, মৌচনী ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। গত বছরের আগস্টের পরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে প্রাণ বাচাঁতে তাঁরা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।

টেকনাফ র‍্যাব-৭ ক্যাম্প ১ ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহাতাব বেনারকে বলেন, একটি দালাল চক্র রোহিঙ্গা নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। র‍্যাব ওই চক্রকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বেনারকে বলেন, “র‍্যাবের হাতে আটক দালালসহ রোহিঙ্গাদের থানায় সোর্পদ করা হয়েছে। এদের মধ্যে দালালকে মানব পাচার আইনে মামলা দিয়ে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কোনোভাবেই সমুদ্রপথে মানব পাচার হতে দেওয়া হবে না।”

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকেও মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারের ঘটনা ঘটছে। গত ২৫ নভেম্বর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাঁদের উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি নৌকা থেকে ৯৩ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানায় বেনারনিউজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেডিও ফ্রি এশিয়া।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন