Follow us

এনজিও প্রতিবেদন: বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা কিশোরীদের মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছে

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2019-12-20
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বালুখালি শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য পরিচালিত ইউনিসেফের একটি স্কুল। ২৭ আগস্ট ২০১৮।
বালুখালি শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য পরিচালিত ইউনিসেফের একটি স্কুল। ২৭ আগস্ট ২০১৮।
[এপি]

উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে রোহিঙ্গা কিশোরীদের মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই মন্তব্য করেছে মালয়েশিয়া ভিত্তিক এনজিও চাইলন্ড রাইটস কোয়ালিশন মালয়েশিয়া।

“প্রায় সময়ই এই কিশোরীদের জোরপূর্বক যৌনতার জন্য পাচার (সেক্স ট্রাফিকিং) করা হয়,” ১০১ পৃষ্ঠার ‘স্টেটাস রিপোর্ট অব চাইলন্ড রাইটস ইন মালয়েশিয়া ২০১৮’ বা ‘মালয়েশিয়াতে শিশু অধিকারের পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়ায় নারী পাচারের ঘটনা অনেক দিনি ধরেই চলে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বেনারকে বলেন, “শিবির থেকে রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের পাচারের কথা অসত্য নয়। এটি অনেকদিন ধরে চলে আসছে। মানব পাচারকারীদের সিন্ডিকেট ভালো চাকুরি, জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাচার করে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে, এই সিন্ডিকেট রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করে। যেহেতু আমরা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিই না সেহেতু পাচারকারীরা সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচার করে।”

পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির ও রাখাইন রাজ্য, দু'জায়গাতেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়াতে মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৬৪ শরণার্থীর মধ্যে শতকরা ২৬ ভাগ বা ৪২ হাজার ৪৮১ জন ছিলেন শিশু।

তবে মালয়েশিয়াতে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা কত তার কোনো পরিসংখ্যান দেয়া হয়নি প্রতিবেদনটিতে।

মালয়েশিয়াতে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে ১৬ বছরের অমুসলিম এবং শরিয়া আদালতের অনুমতি সাপেক্ষ ১৬ বছরের মুসলিম কিশোরীরা বিয়ে করতে পারেন।

২০১৮ সালের আগস্টে দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের ভেতর ২০৩টি বাল্যবিবাহের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ছিল বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বাল্যবিবাহ স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেই সম্পন্ন হয়ে থাকে।

“রোহিঙ্গারা বিয়েকে জীবনের অপরিহার্য অংশ বলে গণ্য করে থাকেন। সফল বিয়ের জন্য মা-বাবার কাছে নিজেদের সম্প্রদায়ই অগ্রাধিকার পায়।”

“মালয়েশিয়াতে রোহিঙ্গা নারীদের সংকট রয়েছে, যা অল্পবয়স্ক রোহিঙ্গা মেয়েদের বিয়ের প্রধান কারণ,” উল্লেখ করে এতে বলা হয় “অনেক রোহিঙ্গা মেয়েরই ১৫ বা ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়।”

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করা বাবা-মায়ের আর্থিক অনটনও রোহিঙ্গা কিশোরীদের বিয়ের অন্যতম কারণ জানিয়ে এতে বলা হয়, “রোহিঙ্গা পুরুষ ও অন্যান্য ‘ক্রেতা’রা মেয়েদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাবার জন্য পাচারকরীদের টাকা দিয়ে থাকে।”

এদিকে “পাচারকারীরা শরণার্থী শিবিরে তৎপর,” মন্তব্য করে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ নূর বেনারকে বলেন, “পাচারকারীরা আমাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সুযোগ নিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের কোনো ভবিষ্যত নেই। এই জন্য অনেক নারী-শিশু পাচারকারীদের ফাঁদে পা দেয়। উন্নত জীবনের আশায় তারা যেভাবে পারে মালয়েশিয়া যেতে পা বাড়ায়।”

নূর বলেন, “আবার ক্যাম্প থেকে শিশু চুরি ও অপহরণ হয়ে থাকে। ক্যাম্পের কিছু লোক এ ধরনের কাজে জড়িত। তাদের মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “তিনদিন আগে, কুতুপালং পশ্চিমের দুই নম্বর ক্যাম্পে নূর বেগম নামে দুই বছরের একটি মেয়ে শিশু চুরি হয়েছে। তার বাবার নাম মো. ইব্রাহিম।”

মোহাম্মদ নূর বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, একজন মহিলা বাচ্চাটিকে খাবারের সাথে কিছু খাইয়ে অচেতন করে চুরি করে নিয়ে গেছে।”

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পাচার প্রবণতা কমে এসেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনেক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করে মামলা দায়ের করেছি। তাদের বিচার করা হবে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন