Follow us

নিউ ইয়র্কে ফাহিম সালেহ হত্যার দায়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী গ্রেপ্তার

বেনারনিউজ স্টাফ
ওয়াশিংটন ডিসি
2020-07-17
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ফাহিম সাহেল হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার টেরেস হাসপিলকে (মাঝখানে) ম্যানহাটনে গাড়িতে তোলার জন্য নিয়ে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। ১৭ জুলাই ২০২০।
ফাহিম সাহেল হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার টেরেস হাসপিলকে (মাঝখানে) ম্যানহাটনে গাড়িতে তোলার জন্য নিয়ে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। ১৭ জুলাই ২০২০।
[রয়টার্স]

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তরুণ উদ্যোক্তা ও রাইড শেয়ারিং সেবা ‘পাঠাও’ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহ (৩৩) হত্যার ঘটনায় শুক্রবার তাঁর এক ব্যক্তিগত সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রডনি হ্যারিসন শুক্রবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জানান, ফাহিম হত্যার সন্দেভাজন আসামি, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী টেরেস হাসপিলকে (২১) শুক্রবার স্থানীয় সময় পৌনে নয়টার দিকে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হয়।

হ্যারিসন বলেন, “হাসপিল ছিলেন সালেহ’র নির্বাহী সহকারী, তাঁর আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন।”

“ধারণা করা হচ্ছে আক্রান্তের (ফাহিম) কাছে তাঁর (হাসপিল) অনেক মোটা অংকের দেনা ছিল,” বলেন হ্যারিসন।

গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটান এলাকায় ফাহিমের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে কেটে তাঁর লাশ বেশ কয়েক টুকরো করা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফাহিম যে দালানে থাকতেন, সেই দালানের বাসিন্দাদের লিফটে উঠে কোনো সাধারণ লবি বা বারান্দায় না পৌঁছে সরাসরি নিজের ফ্লাটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান হ্যারিসন।

তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন সোমবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে লিফট থেকে বেরিয়ে ফাহিম নিজের ফ্লাটে ঢোকার সময় হাসপিল তাঁকে বৈদ্যুতিক নিস্তেজীকরণ অস্ত্র ‘টিজার’ দিয়ে আক্রমণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ফাহিমকে ঠিক কোন সময় হত্যা করা হয়েছিল সে বিষয়ে কিছু জানাননি হ্যারিসন।

মঙ্গলবার ফাহিমের এক কাজিন ঘরের ড্রইংরুমে ফাহিমের মরদেহ আবিষ্কার করে পুলিশকে জানান। ওই সময় ফাহিমের “মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল,” বলেন হ্যারিসন।

পুলিশের বরাত দিয়ে দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ অনুযায়ী কালো পোশাক, কালো মাস্ক ও গ্লাভস পরা একজন লোককে লিফট থেকে ফাহিমকে অনুসরণ করতে দেখা যায়।

লিফট থেকে বের হওয়ার পরপরই ওই লোক টিজারের শক দিয়ে ফাহিমকে নিস্তেজ করে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পরেই ফাহিমকে হত্যা করে বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে মাথাসহ বিভিন্ন অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

তদন্তকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, খুনি ইলেকট্রিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ টুকরো টুকরো করে ব্লিচ দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে ফেলে।

এসময় কেউ একজন ফাহিমের ফ্ল্যাটে এসে কলিংবেল বাজালে খুনি সাত তলা অ্যপার্টমেন্টের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ঘাড় ও শরীরের ঊর্ধ্বাংশে ছুরিকাঘাতের কারণে ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে নিউ ইয়র্কের মেডিকেল এক্সামিনার।

তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আপাতত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় জানিয়ে হ্যারিসন বলেন, হাসপিলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে।

হাসপিল নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে বেনারকে এক ইমেইল বার্তায় জানান নিউ ইয়র্ক পুলিশের গণমাধ্যম বিভাগের মুখপাত্র সোফিয়া ম্যাসন।

কে এই ফাহিম?

বাংলাদেশি বাবা–মায়ের সন্তান ফাহিমের জন্ম সৌদি আরবে। পরে বাবা-মায়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে ফাহিম বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

তিনি বাংলাদেশে রাইড শেয়ার অ্যাপ পাঠাওয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা।

২০১৪ সালে বাংলাদেশে এসে প্রযুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু ব্যবসার উদ্যোগ নেন ফাহিম সালেহ। বেশ কিছু প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আরো দুজন উদ্যোক্তার সাথে রাইড শেয়ার অ্যাপ ‘পাঠাও’ তাঁকে সফলতা এনে দেয়।

বছর দুয়েক আগে সহ-উদ্যোক্তাদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে নাইজেরিয়ার লাগোসে গোকাডা নামে একই রকম একটি কোম্পানি খোলেন তিনি।

“মেধাবী এই উদ্ভাবক বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপস কোম্পানি, ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার তৈরির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধান করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন। বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি,” ফাহিমের মৃত্যুতে বুধবার এক শোক বার্তায় বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন