ডিএমপির অফিসিয়াল সাইটে ছয় জঙ্গির ছবি প্রকাশ,তথ্য পেতে পুরস্কার ঘোষণা

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.05.19
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওয়েবসাইটে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সন্দেহভাজন এই ছয়জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।মে ১৯, ২০১৬।
ডিএমপির অফিশিয়াল সাইট

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়সহ কমপক্ষে ১০ জন লেখক, ব্লগার ও ভিন্নমতাবলম্বী খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ছয়জনের নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।তথ্যদাতাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির অফিশিয়াল সাইটে এসব ছবি প্রকাশ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের সম্পর্কে তথ্যদাতার নাম–পরিচয় গোপন রাখা হবে।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ছয়জনকে শনাক্ত করে পুলিশ।এঁদের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ মোট ১৮ লাখ টাকা।

“ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে । অভিজিৎ​ রায়সহ বেশ কটি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি আমরা। খুব দ্রুতই সুসংবাদ দেওয়া সম্ভব হবে,” বেনারকে জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

গতকাল যাঁদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তার একজন শরিফুল। সে এই নাম ছাড়াও সাকিব, শরিফ, সালেহ, আরিফ ও হাদি নামে পরিচিত।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। অভিজিৎ রায় ছাড়াও গোড়ানে নীলাদ্রি নীলয়, সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যা এবং লালমাটিয়ার আহম্মেদ রশীদ টুটুল হত্যা চেষ্টায় শরিফুল নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।

শরিফুলের বাড়ি বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিত সে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সদস্য নির্বাচনের দায়িত্বও শরিফুল পালন করত।

জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন, তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সূত্রাপুরে ব্লগার নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবেও নাম এসেছে তার।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অপর সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে ফয়সাল আরেফিন দীপন, ওয়াশিকুর বাবু, নীলাদ্রি নীলয় এবং মিরপুরের স্কুল শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সেলিম ছাড়াও সে ইকবাল, মামুন ও হাদি-২ নামে পরিচিত ছিল। শরিফুলের মতো সেও অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে।

সেলিমের উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, গায়ের রং শ্যামলা এবং সে চশমা পরে। তথ্যদাতার জন্য পুলিশ পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

সিফাত নামে একজন সিলেট অঞ্চলের ছেলে। সে ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের সার্বিক সমন্বয়কারী ছিল এবং ওই হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাভারে শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহণে ব্যাপারেও পুলিশ তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। সিফাত ছাড়াও সামির ও ইমরান নামে সে পরিচিত। তার সম্পর্কে তথ্যের জন্য ডিএমপি দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

এ ছাড়া আহমেদুর রশীদ চৌধুরী হত্যা চেষ্টায় কুমিল্লার আব্দুস সামাদ ও চট্টগ্রামের শিহাব জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আব্দুস সামাদ সুজন, রাজু, সালমান ও সাদ নামেও পরিচিত। সুমন ও সাইফুল নামে পরিচিত শিহাব। শিহাব সামরিক শাখার সদস্য বলেও পুলিশ জানায়।

এ ছাড়া সাজ্জাদ নামে এক ব্যক্তির ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সে অভিজিৎ রায় ও নীলাদ্রি নীল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাজ্জাদ সজিব, সিয়াম ও শামস নামেও পরিচিত। এদের প্রত্যেকের ব্যাপারে তথ্যদাতাদের জন্য দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

পুলিশ বলছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি বাড্ডার সাতারকুলে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মোহাম্মদপুরে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

জাগৃতি প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বেনারকে বলেন, “হত্যাকাণ্ডগুলোর কোন পর্যায়ে কে, কীভাবে জড়িত ছিল তা মানুষকে জানানো দরকার। মানুষ এসব বিষয়ে অন্ধকারে আছে।” ছেলে হত্যার বিষয়ে কিছু তথ্য অচিরেই জানতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।