Follow us

বাংলাদেশে সাবমেরিন; বাড়াবে সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও নৌসেনা প্রশিক্ষণের সুযোগ

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016-12-23
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সাবমেরিনের একটি। ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬।
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সাবমেরিনের একটি। ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬।
নিউজরুম ফটো

বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো দুটি সাবমেরিন। এর মাধ্যমে নৌবাহিনীর সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশের নৌ সীমাকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানে দক্ষ জনবল গড়তেও সাবমেরিন দুটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ এবং উড়োজাহাজ রয়েছে। সেগুলোর পাশাপাশি এবার সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের নৌবাহিনী পূর্ণতা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চীন থেকে কেনা সাবমেরিন দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে চীনের পক্ষ থেকে এই কনভেনশনাল সাবমেরিন দুটি হস্তান্তর করা হয়।

দেশটির দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওনান শিপইয়ার্ডে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদের কাছে সাবমেরিন হস্তান্তর করেন চীনের নৌবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা রিয়ার অ্যাডমিরাল লিউ জি ঝু।

বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া সাবমেরিন দুটির নাম দেওয়া হয়েছে নবযাত্রা ও জয়যাত্রা।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, “৭৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন দুটি টর্পেডো ও মাইন দ্বারা সুসজ্জিত, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করতে সক্ষম।”

“নতুন সাবমেরিন দুটি এখন চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আছে,” বেনারকে জানান আইএসপিআর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান।

বন্দর থেকে শিগগিই সাবমেরিন দুটিকে চট্টগ্রাম ড্রাইডকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে বেনারকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো.ওমর ফারুক।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের কাছে সাবমেরিন দুটি হস্তান্তর করেন চীনা নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা। নভেম্বর ১৪, ২০১৬।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের কাছে সাবমেরিন দুটি হস্তান্তর করেন চীনা নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা। নভেম্বর ১৪, ২০১৬। স্টার মেইল

বাংলাদেশের নৌবাহিনীতে সাবমেরিন দুটি যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বেনারকে বলেন, “সাবমেরিন কেনার মাধ্যমে মূলত বাংলাদেশের সামরিক সুরক্ষা বেড়ে গেলো।”

তিনি বলেন, “নৌবাহিনীর এখন ত্রিমাত্রিক শক্তি রয়েছে বলা যাবে। কারণ, আমাদের নেভির হেলিকপ্টার রয়েছে, জাহাজ রয়েছে। এখন সাবমেরিন যুক্ত হওয়ায় সমুদ্রের নিচেও শক্তি বাড়ল।”

তবে যুদ্ধের সময় সাবমেরিনের সঠিক ব্যবহারে জন্য নৌবাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ যাবত বাংলাদেশের কোনো সাবমেরিন না থাকায় এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। তাই এই দুটি সাবমেরিন মূলতঃ নৌবাহিনীর জনবলকে প্রশিক্ষণের কাজে লাগবে বলে জানান খুরশেদ আলম।

এদিকে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় সমুদ্রের প্রায় এক লক্ষ ১১ হাজার ৬শ ৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সার্বভৌমত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। বিরাট এই এলাকার সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানের কাজেও সাবমেরিন দুটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে খুরশেদ আলম বলেন, “সমুদ্রসীমা অর্জন করলেও অনুসন্ধান কাজ করার বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। আগামীতে অনুসন্ধানী সাবমেরিন কিনবে বাংলাদেশ। এই দুটি যুদ্ধ সাবমেরিন হলেও, অনুসন্ধানী সাবমেরিনের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিতে বড় সহায়ক হবে।”

তিনি বলেন, “সাগরের নিচে সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বাইরের লোকের উপর আস্থা রাখা যায় না, এজন্য নিজেদের জনবল প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।”

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকেও সাবমেরিন দুটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুব বেনারকে বলেন, “নৌবাহিনীর জন্য এটা অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার। কারণ, সাবমেরিন দুটি যুক্তি হওয়ায় বাংলাদেশের নৌবাহিনী পূর্ণাঙ্গতা পেলো।”

জানা যায়, ২০১৪ সালে সাবমেরিন কেনার জন্য চীনের সঙ্গে এক হাজার ৫৬৯ কোটি টাকার চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মধ্যে চীনকে এ মূল্য পরিশোধ করা হবে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন