এবার এক হিন্দু দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.05.01
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
160430_BD_TAILOR_620.jpg প্রিয় শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যার বিচার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ঢাকায় প্লাকার্ড হাতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এপ্রিল ২৯, ২০১৬।
বেনার নিউজ

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিখিল চন্দ্র জোয়ারদার (৫০) নামক একজন হিন্দু দর্জিকে গতকাল শনিবার দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত নিখিল হজরত মোহাম্মদ সম্পর্কে কটূক্তি করায় তিন বছর আগে গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে ছিলেন।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে এই হত্যার দায় শিকার করা হয়।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট থেকে শুরু করে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং সমকামী অধিকারকর্মীদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেভাবেই ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এই হত্যাকাণ্ডটিও ঘটানো হয়।

গত ২২ এপ্রিল থেকে আটদিনে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী, সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তন্ময় হত্যার ঘটনা দেশে–বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এর আগে গত এক বছরে দুই বিদেশিসহ এক ডজনেরও বেশি মানুষ খুন হন। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে বেশিরভাগ সময় হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে চাপাতি দিয়ে খুন করে পালিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে এসব হত্যাকাণ্ডের পর আল কায়দা ও আইএসের নামে বার্তা এসেছে। তবে এসব বার্তা উড়িয়ে দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, দেশীয় জঙ্গিরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর নাম দিয়ে ইন্টারনেটে বার্তা দিচ্ছে।

“বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রতিটি ঘটনার পর আইএস বা আল কায়েদার নামে দায় স্বীকার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই,” বেনারকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

গতকালের হত্যাকাণ্ডস্থলে একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। তবে তার ভেতরে কী রয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

“পুলিশ ওই ব্যাগ থেকে চারটি ককটেল জাতীয় বস্তু ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে,” স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. আসলাম খান।

“একটি মোটরসাইকেল তিন যুবক নিখিলের দোকানে আসে। পরে কথা বলার জন্য দোকান থেকে রাস্তার পাশে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়,” টেলিফোনে বেনারকে জানান গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত মুহাম্মদ আব্দুল জলিল।

তিনি জানান, হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে ২০১২ সালে নিখিলকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। পরে তার বিরুদ্ধে গোপালপুর থানায় একটি মামলাও হয়। তিনি কিছুদিন জেল খেটেছিলেন।

নিখিলের মেয়ে লিপি চন্দ্র বন্যা গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ইসলাম অবমাননা করে যে মন্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা হয়, সেটি মিথ্যা। মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তার করে। ২৪ দিন পর তিনি ছাড়া পান।

যেভাবে এই হত্যাকাণ্ড

গোপালপুর পৌর এলাকার ডুবাইল বাজারের মৃত নলিনীকান্ত জোয়ারদারের ছেলে নিখিল নিজ বাড়ির সামনেই তিথি তীর্থ বস্ত্রালয় ও টেইলার্সের দোকান করতেন।

পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে নিখিল দোকান খোলেন। দুপুর ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেলযোগে তিনজন যুবক আসে। তারা নিখিলকে দোকান থেকে ডেকে কথা আছে বলে, রাস্তার দিকে নিয়ে যায়। কথা শুরু করার এক পর্যায়ে তারা চাপাতি দিয়ে নিখিলের মাথা ও গলায় কোপাতে শুরু করে।

নিখিলের চিৎকার শুনে তার স্ত্রী আরতি জোয়ারদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তিনি বের হয়েই দেখেন দু’জন যুবক নিখিলকে কোপাচ্ছে এবং একজন মোটর সাইকেলে বসে রয়েছে। তিনি এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে রক্তমাখা চাপাতি দিয়ে ভয় দেখানো হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।

আরতি জোয়ারদার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তাঁর স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। তারপরও কেন তাকে খুন করা হলো তা বুঝতে পারছেন না।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।