শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে বাংলাদেশ

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2017-07-14
Share
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পৌঁছালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ জুলাই ২০১৭।
ফোকাস বাংলা

দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বছরই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এটাই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি।

শুক্রবার বাংলাদেশে আসা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ নিয়ে ঐকমত্য হয়। বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে ঢাকা আসেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরে দুই দেশের কূটনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন যাতায়াতে একটি চুক্তি এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা ও তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সাতটিই ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত।

সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে; কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, দু’দেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা, দু’দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, ফরেন সার্ভিস ইন্সটিটিউটের মধ্যে এবং বাংলাদেশের বিস ও শ্রীলঙ্কার লক্ষণ কাদিরগামা ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, রেডিও, ফিল্ম ও টিভির সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) ও শ্রীলংকা স্ট্যান্ডার্ডস ইন্সটিটিউশনের (এসএলএসআই) মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলঙ্কা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা সংক্রান্ত স্মারক।

এফটিএ করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক

এদিকে কাছাকাছি অর্থনীতির দেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথমবারের মতো এফটিএ করার এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। সরকারও বিষয়টিকে দেখছে ‘ব্রেক থ্রু’ হিসেবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বেনারকে বলেন, “বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খুবই কম। এফটিএ চুক্তি হলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

“দুই দেশই একই ধরনের পণ্য উৎপাদন করে। এই চুক্তি হলে উভয় দেশের মধ্যে প্রোডাকশন লিংক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেটার সুবিধা তৈরি পোশাক খাতে নেওয়া যেতে পারে। শ্রীলঙ্কা যেহেতু কম্প্লায়ান্স, এনভায়রনমেন্টাল স্ট্যান্ডার্ডে বিশ্বের অন্যতম মানসম্পন্ন দেশ, এ সকল জ্ঞান আমরা নিতে পারি,” বলেন তিনি।

দুই নেতার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

“এটা (এফটিএ) একটা অসম্ভব ব্রেক থ্রু। কারণ আমাদের সঙ্গে কারও এফটিএ নেই। আমার মনে হয় দুই দেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের মধ্যে এটা একটা বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি।”

চলতি বছরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য যে আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, তা দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট সিরসিনা।

বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য বছরে আট কোটি ডলারের মতো জানিয়ে বাণিজ্যসচিব বলেন, “এ চুক্তি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। যা এটা বাড়ানোর জন্য আমরা ২০১৩ থেকে আলোচনা করে আসছি।”

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এফটিএ চুক্তিকে নিজেদের জন্য বড় শিক্ষাও মনে করছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বেনারকে বলেন, “আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা করছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রথমবার চুক্তির অভিজ্ঞতা সেসব চুক্তির ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।”

গবেষক ড. মোয়াজ্জেম বলছিলেন, “দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ক্ষেত্রে নেগোসিয়েশন কীভাবে করতে হয়, সেটা বিশেষ জরুরি। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে, অফেনসিভ বিষয়গুলো না জানলে কোনো চুক্তিই ভালো ফল আনে না। সেই যুক্তিতে আমাদের মতো কাছাকাছি অর্থনীতির দেশের সঙ্গে এফটিএ করে বাংলাদেশ হাত পাকিয়ে নিতে পারে। পরবর্তীতে চীন বা মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ’র চিন্তা করতে পারব।”

সফরের শেষ দিনে একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব। এর মধ্যে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক একটি কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) পাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

“এই যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখাও আরও স্পষ্ট হবে,” বলেন শহীদুল হক।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এফটিএ সই হলে দুই দেশ লাভবান হলেও বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। এই চুক্তিটি সইয়ের পর অন্য যে সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এ ধরনের চুক্তি সই করতে চাইছে তা করতে সুবিধা হবে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন